
সিনিয়র রিপোর্টার
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু
গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থানার জরুন বাজার এলাকায় অবস্থিত কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের কনজ্যুমার পণ্য উৎপাদন কারখানায় বেতন-ভাতা বকেয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শ্রমিকদের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো পূর্বঘোষণা বা নোটিশ ছাড়াই কারখানার প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় শ্রমিকরা বারবার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রতিবারই নির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ করে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সর্বশেষ তিন মাসের বেতন বকেয়া থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই কারখানার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে কারখানা পুনরায় কবে চালু হবে কিংবা বকেয়া বেতন কবে পরিশোধ করা হবে—এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
বেতন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন শ্রমিকরা। অনেকেই সময়মতো বাসা ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে বাড়িওয়ালার চাপের মুখে রয়েছেন। স্থানীয় দোকানগুলোতে বাকির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় অনেক দোকানি আর বাকিতে পণ্য দিচ্ছেন না। ফলে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের লেখাপড়া এবং চিকিৎসা ব্যয় বহন করাও অনেকের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
চাকরি হারানোর আশঙ্কায় অধিকাংশ শ্রমিক প্রকাশ্যে কথা বলতে অনিচ্ছুক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শ্রমিক বলেন, “আমরা চাকরি হারানোর ভয় নিয়ে দিন কাটাচ্ছি। মিডিয়ার সঙ্গে কথা বললে যদি চাকরি চলে যায়—সেই শঙ্কা রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই, যেন দ্রুত আমাদের বকেয়া বেতন আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের জরুন শাখার দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
এদিকে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে কারখানার প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে কারখানা ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শ্রমিকদের দাবি, দ্রুত কারখানা চালু করে তাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় তাদের মানবিক সংকট আরও গভীর হবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।