শনিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন
ঘোষনা
গাজীপুরের ১২৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ দুইজন আসামি গ্রেপ্তার আবার ও ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কে তাকওয়া পরিবাহন রাজধানী এক্সপ্রেস বাসের সাথে সংঘষে বাসের যাত্রী আহত  বঙ্গবন্ধুর উন্নয়ন ভাবনা: প্রেক্ষিত অবকাঠামো’ শীর্ষক আলোচনা সভা  সাহায্য চায় বারইপাড়া গ্রামের পঙ্গু রহিমা বেগম  আহলে বায়তে রাসুল( দ) স্মরণে শোহাদায়ে কারবালা উপলক্ষে খতমে কোরআন ,আলোচনা ,মিলাদ ও দোয়া মাহফিল আজিমুশশান ভাবে সম্পন্ন হয়। গাইবান্ধার পশ্চিম কুপতলায় কবরস্থান জবর দখলের চেষ্টাঃ রাজা মিয়া কর্তৃক এনছাড় আলীর বাড়িঘর ভাংচুর- মারপিট আমরা যদি বঙ্গবন্ধু এবং নেলসন মেন্ডেলার রাজনৈতিক এবং ব্যাক্তিগত জীবন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ইট ভাটা থেকে মাছ ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার  শ্রীপুরের অপহৃতঅপহৃত স্কুলছাত্র উদ্ধার, একজন কারাগারে কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি শাহ্ কামাল আকন্দ রাস্তায় পড়ে থাকা লোকটির চিকিৎসার ব্যবস্থা করলো ।

পলাশবাড়ীতে তান্ত্রিক দম্পতি চিকিৎসার নামে চলছে ভন্ডামী। হাতিয়ে নিচ্ছে অসহায় মানুষের লক্ষ লক্ষ টাকা অভিযোগ এলাকাবাসীর

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ মার্চ, ২০২২
  • ৬২ বার পঠিত

গাইবান্ধার জেলা ব্যুরো প্রধানঃ আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের যুগেও ভণ্ডামির নজির স্থাপন করেছেন চিত্তরঞ্জন সরকার ও তার স্ত্রী অদৃশ্য দৃষ্টির বদৌলতে তান্ত্রিক হয়ে ওঠা শেফালী রানী। বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে কমিশন ভিত্তিক রোগী পটানোর দালাল রেখে চিকিৎসার নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই দম্পতির বিরুদ্ধে।যে কোনো রোগে আক্রান্ত রোগীকে তন্ত্র-মন্ত্র-ঝাড়-ফুক আর নিজেদের তৈরি মহামূল্যবান ওষুধে সুস্থ্য করার খ্যাতি তার দালালদের মুখে মুখে। রোগ ভাল না হলেও হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।

তান্ত্রিক চিত্ত-শেফালির অবস্থান গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার মনোহরপুর ইউপির কুমারগাড়ীর হিন্দুপাড়া গ্রামে। সপ্তাহের শনি ও মঙ্গলবার শিব ঠাকুরের সামনে ধ্যানে বসে রোগীদের গোপন রোগের বর্ণনা দিচ্ছেন শেফালী। রোগের বর্ণনা কাগজে লিখছেন মাস্টার সন্তোষ কুমার সরকার; আর সেই কাগজ চিত্তরঞ্জনের কাছে গেলে অপর পাতায় লেখা হচ্ছে রোগীর ব্যবস্থাপত্র ও চিকিৎসা উপকরণের নাম।

যেখানে লেখা থাকছে “৭টি বোতল; আড়াই কেজি চাল; পাঁচ প্রকার ফল; সোয়া গজ সুতি কাপড় এক রং; তিন হাজার টাকা; একটি ছাগল (পাঠা)। সবশেষে লেখা থাকে ঔষধ আলাদা।” এর সবই একজন রোগীর ব্যবস্থাপত্রে লেখা রয়েছে। তবে রোগ বিচারে রয়েছে ভিন্নতা।

রোগের বিবরণে লেখা হয়েছে “শরীরের সমস্যা। ব্যাথাময়; জ্বরজ্বর ভাব। খাদ্যে অরুচি; কোমর থেকে মেরুদণ্ড পর্যন্ত ব্যাথা। কু-স্বপ্ন দেখে। ঔষধে কোন ক্রিয়া হয় না। দুর্বলতার ভাব। ঘুমের সমস্যা। উপরন্তি দোষ আকর্ষণ। বাড়িতে দোষ দৃষ্টি প্রবেশ। বাড়িতে শব্দ হয়। সঠিক ভাবে নামাজী হতে হবে। কিছু ডায়াবেটিসের সমস্যা আছে।”

রোগের বিবরণে লেখা এগুলো ধ্যানে বসা শেফালী রানী বলছেন; কাগজে লিখছেন মাস্টার সন্তোষ কুমার সরকার আর এসব শুনে রোগী ও তার স্বজনরা হচ্ছেন ভীত-নাজেহাল। ব্যবস্থাপত্রে লেখা আনুষাঙ্গিক উপকরণ কেনার সব টাকা না থাকায় কাছে থাকা সর্বস্ব দিয়ে অবশিষ্ট টাকা সংগ্রহে ফিরছেন বাড়ি। পরবর্তীতে টাকা পরিশোধে নেয়া ব্যবস্থাপত্রে কোনো সুবিধা না পাওয়ায় টাকা ফেরতে রোগীদের পড়তে হয় বিড়ম্বনায়। তান্ত্রিকদের দাবি টাকা দিয়ে পথ্য কেনা হয়েছে। ফেরত দেয়া যাবে না।

এ বিষয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয় চিত্তরঞ্জন সরকারের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে দেখা যায়- বাড়ীর একটি ঘরে মূর্তি সামনে বসা তান্ত্রিক শেফালী রানী। ঘরের বারান্দায় বসা রোগী ও স্বজন। পাশেই তান্ত্রিকের কথাগুলোর প্রতিধ্বনি করে তা কাগজে লিখছেন মাস্টার সন্তোষ কুমার। বারান্দার একপাশে বিছানা পেতে বসে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র লিখছেন চিত্তরঞ্জন দা। এদিনও রোগী উপস্থিত পনেরো-কুড়ি। বয়স ভেদে তান্ত্রিক আওড়াচ্ছেন রোগের বিবরণ। আর আগেই দালালদের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা জানা চিত্ত দা ব্যবস্থাপত্রে লেখছেন ইচ্ছামত টাকা।

দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর কথা হয় শেফালী রানীর সাথে। তিনি জানান, আমার ওপর কালী ও শিবের দৃষ্টি রয়েছে। বিগত ২০ বছর আমি এটি ধরে রেখেছি। দেবতাদের দৃষ্টির সাহায্যেই আমি রোগীদের শরীরে লুকানো রোগ জানতে পারি। ডায়াবেটিস ও হার্ড ব্যতীত সব রোগের চিকিৎসা আমি দিয়ে থাকি। শত শত রোগী ভাল হয়েছে। ফি নেয়া হয় ২৫ টাকা। আনুষাঙ্গিক সব ব্যবস্থাপত্রে উল্লেখ থাকে।

তবে তাদের দাবিকে অস্বীকার করে ভুক্তভোগী পরিবার বলছে ভিন্ন কথা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোগীর এক স্বজন জানান, সব মিথ্যা। ফাকি দিয়ে চাল,ফল, টাকা, পাঠা নেয়া হয়। রোগীর কোনো উন্নতি হয় না। যারা এখানে তান্ত্রিকের সুপারিশ করছে; ওরা ভাড়াটে দালাল। আমরা টাকা ফেরত চাইতে এসেছি। আমাদের বলা হচ্ছে পণ্য-উপকরণ কিনতে খরচ হয়েছে। এখানে টাকা ফেরত হয় না।

চিত্তরঞ্জনের দাবি, যারা বিশ্বাস করে; আমরা তাদেরই ব্যবস্থাপত্র দেই। রোগী ভাল হয়। আর চাল-ফল-পাঠা-টাকা দিয়ে পূজা-অর্চনা ও বাৎসরিক অনুষ্ঠান করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..
এই পত্রিকার সকল সংবাদ, ছবি ও ভিডিও স্বত্ত্ব সংরক্ষিত © ২০২১ দৈনিক মাতৃজগত    
কারিগরি সহযোগিতায়ঃ Bangla Webs
banglawebs999991