
নিজস্ব প্রতিবেদক:-
বগুড়ার নন্দীগ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আরাকে তাঁর নিজ কার্যালয়ে ঢুকে দুর্বৃত্তরা জিম্মি করেছে—এমন এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় (২৯ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার দুপুরে।
খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই থমথমে হয়ে ওঠে নন্দীগ্রাম উপজেলা পরিষদ চত্বর।
সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় নন্দীগ্রাম ৪০ বীর সেনা ক্যাম্পের চৌকস সেনাবাহিনীর একটি দল। চারদিক ঘিরে কৌশলগত অবস্থান নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। শুরু হয় সাইরেন, দৌড়ঝাঁপ ও অস্ত্রধারী সদস্যদের তৎপরতা। পরে কমান্ডো কায়দায় অভিযান পরিচালনা করে ‘দুর্বৃত্তদের’ আটক করা হয় এবং ইউএনওকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তবে কিছুক্ষণ পর জানা যায়, ঘটনাটি বাস্তব কোনো পরিস্থিতি নয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যৌথ বাহিনীর একটি পূর্বপরিকল্পিত মহড়ার অংশ হিসেবেই এ দৃশ্যের অবতারণা করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এই মহড়ায় পরিকল্পিতভাবে ইউএনও কার্যালয়ে ‘দুর্বৃত্ত প্রবেশ’ ও ‘জিম্মি পরিস্থিতি’ তৈরি করা হয়। মহড়ার সময় উপজেলা পরিষদের সামনের সড়কে উৎসুক জনতার ভিড় জমে যায়। অনেকে প্রথমে ঘটনাটিকে বাস্তব মনে করে আতঙ্কিত হলেও পরে বিষয়টি জানার পর স্বস্তি প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা, সহিংসতা কিংবা জিম্মি পরিস্থিতির মতো গুরুতর ঘটনা মোকাবিলায় বাহিনীগুলোর প্রস্তুতি যাচাই এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয় জোরদার করতেই এই মহড়ার আয়োজন করা হয়।
মহড়ায় নন্দীগ্রাম ৪০ বীর সেনা ক্যাম্পের সেনাসদস্যরা অংশ নেন। জিম্মি উদ্ধার, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে প্রবেশ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ—এসব সক্ষমতা যাচাই ছিল মহড়ার মূল উদ্দেশ্য।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আরা বলেন, “জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মহড়া সেই প্রস্তুতিকে আরও কার্যকর করে তোলে।”