
মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি:
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার যাদবপুর গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হোসেন, পেশায় একজন ডেলিভারিম্যান, গত ১৩ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সোমবার রাতে উপজেলার হারদী–কুয়াতলা নামক গ্রামের রাস্তার পাশে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পরিবারের দাবি, বৈদ্যনাথপুর সড়কে ছিনতাইয়ের শিকার হওয়ার পর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ফারুক পণ্য ডেলিভারির উদ্দেশ্যে বের হন। পরে বৈদ্যনাথপুর সড়ক এলাকায় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। সম্ভাব্য আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়েও তার সন্ধান মেলেনি।
ফারুকের স্বজনরা জানান, একজন কর্মজীবী মানুষ হঠাৎ করে এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃশ্যমান তৎপরতা দেখতে পাচ্ছেন না। তাদের প্রশ্ন—রাষ্ট্রের প্রশাসনিক কাঠামোতে এমপি আছেন, জেলা পর্যায়ে পুলিশ সুপার (এসপি) আছেন, গোয়েন্দা সংস্থা রয়েছে; তবে একজন সাধারণ মানুষের খোঁজে কার্যকর পদক্ষেপ কোথায়?
স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে একজন ডেলিভারিম্যান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় দ্রুত তদন্ত ও উদ্ধার অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ১৩ দিন পেরিয়ে গেলেও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার ওসি বানী ইসরাইলের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান,
“বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে মানবাধিকারকর্মী ও সচেতন মহল বলছেন, একটি নিখোঁজের ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, এটি সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও প্রতিফলন। তাই দ্রুত উদ্ধার ও ঘটনার রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের আন্তরিকতা ও পেশাগত চ্যালেঞ্জ গ্রহণ জরুরি।
ফারুকের পরিবারের আর্তি—
“আমরা শুধু তাকে ফিরে পেতে চাই। বেঁচে থাকুক বা না থাকুক, অন্তত তার খোঁজটা যেন পাই।”
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়মিত অনুসন্ধান ও ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি উঠেছে, যাতে বিষয়টি চাপা না পড়ে এবং দ্রুত সমাধানের পথে অগ্রসর হয়।