মোঃ জহুরুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি: কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গায় প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল ৪টায় নুরুজ্জামান বিশ্বাস অডিটোরিয়াম, আল্লারদর্গায় উৎসবমুখর পরিবেশে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোঃ সেলিম রেজা, সভাপতি, আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক, আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান লস্কর, সভাপতি, আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খন্দকার মোঃ মহসিন আলী, সাধারণ সম্পাদক, আল্লারদর্গা বাজার কমিটি; মোঃ সাইদুল আনাম, উপদেষ্টা, আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ; অধ্যাপক মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, পরিচালক, টেসল ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল এবং কামরুল হাসান, প্রধান শিক্ষক, আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদের নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রাকিবুল হক, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সুজা উদ্দীন, আজীবন সদস্য মোঃ খালিদ কায়সার পলাশ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মাহমুদ রাকিব, অর্থ সম্পাদক এস.এম. এমরান হোসাইন, প্রচার সম্পাদক শাফিন আহমেদ, কার্যনির্বাহী সদস্য মোঃ ইউসুফ খান, আকাশ, সাব্বির, রাব্বিসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা। বক্তারা যা বললেন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, আল্লারদর্গার ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিতে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনে উৎসাহিত করবে এবং তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় অনুপ্রেরণা জোগাবে। বক্তারা আরও বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জন করলেই হবে না, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমের শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। আজকের কৃতী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে পরিবার, সমাজ ও দেশের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের মেধাকে সঠিকভাবে কাজে লাগানোর পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও সমাজের সবার। বক্তারা আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদের বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসে, যখন সেই সংগঠন মানুষের প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ায়। শিক্ষা, ক্রীড়া, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক সচেতনতা তৈরিতে সংগঠনটির কার্যক্রম ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানান তারা। সংগঠনের বক্তব্য অনুষ্ঠানের সভাপতি মোঃ সেলিম রেজা বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানো শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আগামী প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখানোর একটি উদ্যোগ। শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে পাশে থাকবে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা কামরান আহমেদ রাজীব বলেন, “আল্লারদর্গার কৃতী শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে পেরে আমরা আনন্দিত। প্রথমবারের মতো এমন আয়োজন করতে পেরে আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ গর্বিত। ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে শিক্ষার্থীদের সম্মান জানানো এবং তাদের জন্য খাবারের আয়োজন করা আমাদের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ। আমরা চাই, আমাদের শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সফল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে উঠুক।” তিনি আরও বলেন, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা, খেলাধুলার প্রসার, মাদক ও অনলাইন জুয়া প্রতিরোধ এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোসহ বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আল্লারদর্গা যুব কল্যাণ পরিষদ বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক, ক্রীড়া ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় এবার প্রথমবারের মতো এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। আয়োজকদের এমন উদ্যোগে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। সম্মাননা গ্রহণের পর শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জন করে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও এলাকার মুখ উজ্জ্বল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সার্বিকভাবে উৎসবমুখর পরিবেশে কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্রেস্ট, ফুল ও খাবার বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
