বিশেষ প্রতিনিধি: এস এম জসিম চট্টগ্রামের উত্তর হালিশহরের বি-ব্লক, হারুন মাঝির কলোনির খালের পাড় এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় নারী জরিনা বেগমের বসতবাড়ি নিয়ে স্থানীয় একটি পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধের জেরে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা, হয়রানি, হামলা এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী জরিনা বেগম (৫৫) জানান, উত্তর হালিশহর খালপাড় এলাকায় সরকারি জায়গায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তার বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে হয়রানি করে আসছে এবং মামলা ও হামলার ভয় দেখাচ্ছে। জরিনা বেগমের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে তার বসতঘর মেরামতের কাজে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় তার কাছে চাঁদা দাবি করা হয় এবং চাঁদা না দিলে ঘরের মেরামতের কাজ বন্ধ রাখতে হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এর পরদিন ১৮ জুলাই ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ক্ষিপ্ত হয়ে পার্শ্ববর্তী কয়েকজন ব্যক্তি তার পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন জরিনা বেগম। এ সময় তার ছেলে বাবুলকে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম করা হয়। পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান। পরে আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে বলে জানান জরিনা বেগম। পরবর্তীতে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ তারিখে তিনি চট্টগ্রামের বিজ্ঞ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর. মামলা দায়ের করেন। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের মো. ইকবাল (৩০), পিতা—মরহুম ইউনুস মাঝি, বাদী হয়ে জরিনা বেগমের ছেলে-মেয়েসহ সাতজনকে আসামি করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি ফৌজদারি অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলাটির নম্বর সি.আর. ৫৩৬/২০২৬, চট্টগ্রাম। জরিনা বেগম দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তিনি আরও জানান, তার বসতবাড়ি নিয়ে একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধরনের পাঁয়তারা করে আসছে। জরিনা বেগমের অভিযোগ, এর আগেও ৫ আগস্ট ২০২৪ সালে তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধমকি এবং মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন। এ ঘটনায়ও একটি মামলা চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি। এ বিষয়ে জরিনা বেগম বলেন, তিনি একজন অসহায় নারী। দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে ওই এলাকায় বসবাস করছেন। বসতবাড়ি নিয়ে বিরোধের জেরে যেন তাকে অন্যায়ভাবে উচ্ছেদ বা হয়রানি করা না হয়, সে জন্য তিনি প্রশাসন ও আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করেন। তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আকুল আবেদন জানাচ্ছেন।
