প্রিন্ট এর তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ১:২১ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ৫:৪৪ এ.এম
গলাচিপায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর গলাচিপায় যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে গলাচিপা উপজেলা পরিষদ সম্প্রসারণ ভবনের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ”শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”—এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে রেখে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, “একটি সমাজের অর্ধেক পুরুষ আর অর্ধেক নারী। আজকের কন্যারা কোনো অংশেই ছেলেদের চেয়ে পিছিয়ে নেই। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে কন্যারা এখনও নানা ধরনের বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। কন্যাশিশুদের যথাযথ সুযোগ-সুবিধা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারলে তারা দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।” সভায় উপস্থিত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কন্যা শিক্ষার্থীরা তাদের অভিমত ব্যক্ত করে বলে, “বাল্যবিয়ে ও ইভটিজিং আমাদের পড়ালেখার প্রধান অন্তরায়। সমাজের প্রতিটি কন্যাশিশু যেন ভয়ভীতিহীন পরিবেশে নিজের স্বপ্নের পথে এগিয়ে যেতে পারে, সেই নিরাপদ পরিবেশ ও সামাজিক সহযোগিতা আমরা প্রত্যাশা করি।” সামাজিক সংগঠন ‘ইসলামিক রিলিফ বাংলাদেশ’ ও ‘আভাস’-এর প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, “কন্যাশিশুদের অধিকার রক্ষা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। তৃণমূল পর্যায়ে কন্যাশিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।” সাংবাদিকদের পক্ষে গলাচিপা প্রেসক্লাবের সভাপতি খালিদ হাসান মিল্টন বলেন, “কন্যাশিশুদের সুরক্ষা ও অধিকার আদায়ে গণমাধ্যম সবসময় সোচ্চার। বাল্যবিয়ে রোধে এবং সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে সাংবাদিকদের কলম ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন অব্যাহত থাকবে।” গলাচিপা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার তাঁর বক্তব্যে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি জোর দিয়ে বলেন, “কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা বা বাল্যবিয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পুলিশ প্রশাসন বরদাশত করবে না। যেকোনো সমস্যায় পুলিশকে ৯৯৯ নম্বরে দ্রুত জানানোর আহ্বান জানাচ্ছি।” সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক কুমিল্লার সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাম্প্রতিক একটি ঘটনার উদাহরণ টেনে এনে বলেন, “সচেতনতার অভাবে আমাদের অনেক সম্ভাবনাময় কন্যাশিশুর জীবন কুঁড়িতেই ঝরে যাচ্ছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি আমরা আর দেখতে চাই না।” উপস্থিত অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি আরও বলেন, “ছোট বয়সেই অপ্রয়োজনে সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। অপসংস্কৃতি ও অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে মোবাইলের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামী করছে। বিশ্বজয় করতে হলে কঠোর পরিশ্রম, পড়াশোনা ও নৈতিক শিক্ষার প্রয়োজন—মোবাইল স্ক্রিনে মগ্ন থেকে কখনও বিশ্বজয় সম্ভব নয়। পাশাপাশি অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে না দিয়ে তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানাচ্ছি।” উক্ত সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা, সদস্য সচিব মো. আলতাফ হোসেন খান, সহ-সভাপতি মো. সোহরাব মিয়া, গণঅধিকার পরিষদের উপজেলা আহ্বায়ক মো. হাফিজুর রহমান, পটুয়াখালী জেলা যুব অধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ এনিমসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া গলাচিপা উপজেলা ফায়ার সার্ভিস, আনসার ও ভিডিপি প্রতিনিধি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত কন্যা শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।