
প্রতিবেদন: মোহাম্মদ রাহিম বিশেষ প্রতিনিধি ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে দেখা দিয়েছে নতুন উদ্বেগ। প্রতিদিন ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার তথ্য জানা গেছে। অর্থাৎ, চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের বরাদ্দ অর্ধেকে নেমে আসার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভোগান্তি বাড়তে পারে সাধারণ গ্রাহকদের। কিন্তু কেন এই সীমিত বরাদ্দ? কত দিন চলবে এমন পরিস্থিতি? আর কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে বিদ্যুৎ সরবরাহ? এসব প্রশ্ন এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিদ্যুৎ গ্রাহকদের। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২৭ অক্টোবর ২০২৬ থেকে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহের অনুমোদন কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে প্রতিদিন প্রায় ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও এর বিপরীতে মাত্র ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারের অনুমোদন পাওয়ার কথা জানা গেছে। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে আসার এই পরিস্থিতিতে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ বাড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বিদ্যুতের বরাদ্দ কমানোর কারণ এবং এর প্রভাব সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যুতের সরবরাহ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়তে পারেন সাধারণ গ্রাহকেরা। বাসাবাড়ির দৈনন্দিন কাজকর্ম থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম এবং ক্ষুদ্র শিল্পকারখানার উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকলে গরমের মধ্যে জনদুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও দেখা দিতে পারে স্থবিরতা। তবে বিদ্যুতের বরাদ্দ কমে যাওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা সরবরাহের ঘাটতি, নাকি স্থানীয় কোনো কারিগরি কিংবা ব্যবস্থাপনাগত সমস্যা, কোন কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, এই সীমিত বরাদ্দ কত দিন অব্যাহত থাকবে এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোন কোন এলাকায় এর প্রভাব পড়তে পারে। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে এত বড় ব্যবধান তৈরি হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ অবস্থায় গ্রাহকদের প্রত্যাশা, বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং বরাদ্দ কমানোর কারণ দ্রুত স্পষ্ট করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি কমানো সম্ভব হয়। সব মিলিয়ে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে মাত্র ১২ মেগাওয়াট ব্যবহারের অনুমোদনের তথ্য নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই ঘাটতি কীভাবে সামাল দেওয়া হয় এবং কত দ্রুত স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রকৃত অবস্থা, বরাদ্দ কমানোর কারণ এবং সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে।