
মোঃ শাকিল খান (রাজু) সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ভোলার মনপুরায় উপজেলা পরিষদের সামনে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের পাশে ও চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশে সরকারি দোকানের ভিটি বরাদ্দ বাতিলের দাবীতে সদর হাজিরহাট বাজারে দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানান ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ৮ থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত বন্ধ দোকানপাঠ বন্ধ রেখে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছেন ব্যবসায়ীরা। এই সময় উপজেলা সদর হাজিরহাট বাজারের সহস্রাধিক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখেন। এর আগে বুধবার রাত ১১ টায় হাজিরহাট বাজারে ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃত্বে অবস্থান কর্মসূচী পালন করে ব্যবসায়ীরা। পরে রাতে মাইকিং করে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকেল ৪ টা দোকানপাট বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন ব্যবসায়ী নেতারা। এদিকে ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ করায় বিপাকে পড়েছে বাজারে আসা ক্রেতারা। তারা খালি হাতে ফিরতে দেখা গেছে। জানা যায়, উপজেলা পরিষদের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ও চতুর্থ শেণী ক্লাবের পাশে সরকারি জমিতে ব্যবসায়ীদের জন্য ৫২টি ভিটি বরাদ্দ দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পাশে ৪২ টি ভিটি বরাদ্দের জন্য ৫০ হাজার টাকা ও চতুর্থ শ্রেণি ক্লাবের পাশের জমিতে ১০ টি ভিটি বরাদ্দের জন্য ১ লক্ষ টাকা পেঅর্ডার করে আবেদন করা হয়। পরে লটারীর মাধ্যমে ভিটি বরাদ্দের জন্য নামের তালিকা প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির কোষাধ্যক্ষ আবদুর রহমান, ব্যবসায়ী নেতা মোঃ জসিম ও মোঃ আব্বাস জানান, ৫০ বছরের পুরানো হাজিরহাট বাজারে সহাস্রাধিকের ওপর ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করছেন। কিন্তু উপজেলা প্রশাসন টাকার লোভে বাজারের কাছে ভিটি বরাদ্দ দিয়ে হাজিরহাট বাজার ভেঙ্গে নতুন বাজার করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। উপজেলা প্রশাসনের অবৈধ উদ্যোগের প্রতিবাদে তারা দোকানপাট বন্ধ রেখে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তারা আরও জানান, গত বুধবার ভিটি বরাদ্দ বাতিলের দাবীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দেন। এই ব্যাপারে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সহসভাপতি নিজাম উদ্দিন, বেলায়াত হোসেন ও মিজান পাটোয়ারী জানান, উপজেলা প্রশাসন কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাজারের কাছাকাছি ভিটি বরাদ্দ দিয়ে বাজার ভেঙ্গে দেওয়ার কাজ করছে। ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম বন্ধ না করলে সামনে আরও বৃহৎ কর্মসূচি দিবেন বলে হুশিয়ারি দেন তারা। এই ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) খান সালমান হাবিব জানান, উপজেলা পরিষদের আর্থিক খাত বাড়ানোর জন্য ভিটি বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহন করা হয়। আপাতত ভিটি বরাদ্দের কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে।