
আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:
বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ও সাতক্ষীরা সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম কাজী শামসুর রহমানের কবর জিয়ারত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরে তার কবর জিয়ারতকালে ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে জামায়াতের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া করা হয়।
কাজী শামসুর রহমান ১৯৩৭ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরে জন্মগ্রহণ করেন এবং ২০০৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৯৬৩ সালে ঢাকা ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ থেকে এমএড ডিগ্রি অর্জন করেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি ১৯৮৬, ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সাতক্ষীরা সদর আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ত্রাণ মন্ত্রণালয় ও কৃষি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য, হিসাব কমিটির সদস্যসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদের মসজিদে আজান ও নামাজের ব্যবস্থা চালু, সাতক্ষীরায় আড়াইশ’ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ, স্বল্প খরচে সমুদ্রপথে সহজ শর্তে হজ পালনের প্রস্তাব, সাতক্ষীরা আলিয়া মাদরাসা সরকারীকরণ, পতিতাবৃত্তি বিলুপ্তকরণ, সেনা, পুলিশ ও বিডিআর সদস্যদের নামাজ আদায়ের সময় নির্ধারণ এবং তাদের পারিবারিক সুবিধা সংক্রান্ত প্রস্তাবসহ নানা জনকল্যাণমূলক বিষয় তিনি সংসদে উত্থাপন করেন। এছাড়া প্রত্যন্ত অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া, কালীগঞ্জ ও আশাশুনিতে সেতু নির্মাণ এবং নাভারন থেকে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের জন্যও তার নেতৃত্বে প্রস্তাব পেশ করা হয়।
তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা সমিতি, বৃহত্তর খুলনা সমিতি, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াত এবং পরিবারের উদ্যোগে মিলাদ মাহফিল, কুরআনখানি ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
মরহুম কাজী শামসুর রহমানের ব্যক্তিজীবন নিয়ে সাতক্ষীরায় একটি প্রসিদ্ধ ঘটনা প্রচলিত রয়েছে। দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর একদল প্রতিপক্ষ ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িতে অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা করে। গভীর রাতে তারা কেরোসিন নিয়ে বাড়ির কাছে গেলেও দেখতে পায় তিনি তখনও জেগে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতে মগ্ন। একাধিকবার আগুন ধরানোর চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হয়। পরে তার সামনে এসে পুরো ঘটনা স্বীকার করে ক্ষমা চাইলে তিনি তাদের নিঃশর্তভাবে ক্ষমা করে দেন। এই ঘটনার মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব, সহনশীলতা ও গ্রহণযোগ্যতা মানুষের কাছে আরও সুদৃঢ় হয়।