ঢাকা ০৪:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামান্য পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৪১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬১ Time View
Print

মোঃ রাকিবুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:–
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আনোয়ার মোল্লা (৫০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম করিম প্রামানিক ওরফে হাদু (৬৫)। তিনি ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন আনোয়ার মোল্লা, হাফিজ মোল্লা, বাবু মোল্লা, মোমিন, সিহাব ও আমিনুর মোল্লা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) পেশায় একজন শ্রমিক। তিনি ১নং বিবাদী কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার অধীনে কাজ করতেন। কাজের মজুরি বাবদ শফিকুল আনোয়ারের কাছে ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল রাত পৌনে ৯টার দিকে শফিকুল পাওনা টাকা চাইলে আনোয়ার তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় ডেকে নেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শফিকুল সেখানে পৌঁছালে বিবাদী আনোয়ার মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে আনোয়ারের নির্দেশে হাফিজ মোল্লা গাছের ডাল দিয়ে শফিকুলকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। ছেলের চিৎকার শুনে বাবা করিম প্রামানিক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আনোয়ার মোল্লা লোহার শাবল দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এতে করিম প্রামানিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিবাদী বাবু মোল্লা ও হাফিজ মোল্লাসহ অন্যরা তাকে লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন ২২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়ি আসলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক জানান, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে আঘাত করে হত্যা করেছে।

শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, হত্যা মামলা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তারেখ রেজা সংবাদ সম্মেলনের আগেই গ্রেফতার হলেন ঝিনাইদহ থেকে।

সামান্য পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়ায় বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা

Update Time : ১১:৪১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ রাকিবুল ইসলাম, বগুড়া জেলা প্রতিনিধি:–
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নে পাওনা ৫ হাজার টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে আনোয়ার মোল্লা (৫০) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তির নাম করিম প্রামানিক ওরফে হাদু (৬৫)। তিনি ভবানীপুর ইউনিয়নের বরাইদহ খন্দকারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

এ ঘটনায় নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক বাদী হয়ে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে শেরপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন আনোয়ার মোল্লা, হাফিজ মোল্লা, বাবু মোল্লা, মোমিন, সিহাব ও আমিনুর মোল্লা।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহতের বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম (৩৩) পেশায় একজন শ্রমিক। তিনি ১নং বিবাদী কাঠ ব্যবসায়ী আনোয়ার মোল্লার অধীনে কাজ করতেন। কাজের মজুরি বাবদ শফিকুল আনোয়ারের কাছে ৫ হাজার টাকা পাওনা ছিলেন। গত ২১ এপ্রিল রাত পৌনে ৯টার দিকে শফিকুল পাওনা টাকা চাইলে আনোয়ার তাকে টাকা দেওয়ার কথা বলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ির আঙিনায় ডেকে নেন।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, শফিকুল সেখানে পৌঁছালে বিবাদী আনোয়ার মোল্লা ও তার সহযোগীরা তাকে গালিগালাজ শুরু করেন। এক পর্যায়ে আনোয়ারের নির্দেশে হাফিজ মোল্লা গাছের ডাল দিয়ে শফিকুলকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন। ছেলের চিৎকার শুনে বাবা করিম প্রামানিক তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত আনোয়ার মোল্লা লোহার শাবল দিয়ে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করেন। এতে করিম প্রামানিক মাটিতে লুটিয়ে পড়লে বিবাদী বাবু মোল্লা ও হাফিজ মোল্লাসহ অন্যরা তাকে লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।

স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে করিম প্রামানিকের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়। পরদিন ২২ এপ্রিল হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে তিনি বাড়ি আসলে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাকে পুনরায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত সোয়া ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহতের ছেলে শাহাদত প্রামানিক জানান, বিবাদীরা পরিকল্পিতভাবে তার পিতাকে আঘাত করে হত্যা করেছে।

শেরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম মঈনুদ্দিন বলেন, হত্যা মামলা হয়েছে। একজনকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।