ঢাকা ০৪:১১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন’—শিক্ষকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আহ্বান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ২৬ Time View
Print

মোঃ শফিকুর রহমান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা উচিত। তাঁর মতে, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান, রূপনগরে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং পল্লবীতে ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ, যার ঘাটতি বর্তমান সমাজে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আজ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক বাবা-মা নিজেদের সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতেও সংকোচ বোধ করেন। এটি আমাদের সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করবেন, তখন প্রতিটি ক্লাসে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, সমাজে একসময় যৌথ পরিবারের যে সংস্কৃতি ছিল, সেখানে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই একসঙ্গে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়াকেই স্বাভাবিক মনে করেন। পারিবারিক ও সামাজিক এই মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করা সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি—শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, সুশিক্ষিত হতে হবে। আর সুশিক্ষার ভিত্তি হলো নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানের তরুণ ও ‘জেন জি’ -এর হাতেই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব থাকবে। তাই তাদের মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

একপর্যায়ে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হালকা রসিকতা করে বলেন, ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্রাজিল সমর্থকেরা হয়তো কিছুটা হতাশ, আর আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। তবে তিনি সব দলের সমর্থকদের প্রতি শুভকামনা জানান।

সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, “প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা কিংবা সন্তান—সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি এই মূল্যবোধ গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিশেষ কমিটির সভাপতি ম. হামিদুর হক মানিক।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

‘প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন’—শিক্ষকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আহ্বান

‘প্রতিটি ক্লাসে পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা দিন’—শিক্ষকদের প্রতি প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের আহ্বান

Update Time : ১২:৪৪:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ শফিকুর রহমান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা উচিত। তাঁর মতে, একটি শিক্ষিত জাতি গঠনের জন্য পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানের পাশাপাশি মানবিকতা, পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বার্ষিক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠান, রূপনগরে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং পল্লবীতে ৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত পৃথক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আমিনুল হক বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। তবে শিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ, যার ঘাটতি বর্তমান সমাজে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

তিনি বলেন, “আজ এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে অনেক বাবা-মা নিজেদের সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলতেও সংকোচ বোধ করেন। এটি আমাদের সমাজের জন্য উদ্বেগজনক। এই নৈতিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আপনারা যখন শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন বিষয়ে পাঠদান করবেন, তখন প্রতিটি ক্লাসে অন্তত পাঁচ মিনিট নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, বয়োজ্যেষ্ঠদের প্রতি সম্মান এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ নিয়ে আলোচনা করবেন। এতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও মানবিক ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে।”

তিনি বলেন, সমাজে একসময় যৌথ পরিবারের যে সংস্কৃতি ছিল, সেখানে বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই একসঙ্গে বসবাস করতেন। কিন্তু বর্তমানে অনেকেই বিয়ের পর আলাদা হয়ে যাওয়াকেই স্বাভাবিক মনে করেন। পারিবারিক ও সামাজিক এই মূল্যবোধ পুনরুদ্ধার করা সময়ের দাবি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই শুনে এসেছি—শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। কিন্তু শুধু শিক্ষিত হলেই হবে না, সুশিক্ষিত হতে হবে। আর সুশিক্ষার ভিত্তি হলো নৈতিকতা ও সামাজিক মূল্যবোধ।”

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, বর্তমানের তরুণ ও ‘জেন জি’ -এর হাতেই আগামী বাংলাদেশের নেতৃত্ব থাকবে। তাই তাদের মানবিক, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

একপর্যায়ে নিজের খেলোয়াড়ি জীবনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি হালকা রসিকতা করে বলেন, ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্রাজিল সমর্থকেরা হয়তো কিছুটা হতাশ, আর আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা নতুন স্বপ্ন দেখছেন। তবে তিনি সব দলের সমর্থকদের প্রতি শুভকামনা জানান।

সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের গুরুত্ব তুলে ধরে আমিনুল হক বলেন, “প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন, বাবা-মা কিংবা সন্তান—সবার সঙ্গে সম্মানজনক আচরণ করতে হবে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে যদি এই মূল্যবোধ গড়ে তোলা যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ সমাজ আরও সুন্দর ও মানবিক হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আরও বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের বিশেষ কমিটির সভাপতি ম. হামিদুর হক মানিক।