ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিটিভির ক্যামেরায় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ও মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন–এর মতবিনিময়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
  • ২৭৫ Time View
Print

আরিফুল ইসলাম কাজল,সিনিয়র বিনোদন প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন–এর ক্যামেরায় ধরা পড়া এক বিশেষ আয়োজনে উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা এবং মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন–এর আন্তরিক মতবিনিময় ঘিরে মানবাধিকার ও সংস্কৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।
আলোচনায় মানবাধিকার প্রসঙ্গে সেহলী পারভীন বলেন, দেশে নারীর নিরাপত্তা, শিশু অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন,
“মানবাধিকার শুধু আইনের বিষয় নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা এখনো অপ্রকাশিত থেকে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কর্মসূচি, সহজলভ্য আইনি সহায়তা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার হয়রানি, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে সেহলী পারভীন বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই শিল্পীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার জন্য সহনশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
এ প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন,
“সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়কে একত্র করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগীত ও শিল্প মানুষের ভেতরের মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে এবং বিভেদ ভুলে একসঙ্গে চলার শক্তি দেয়। তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে—কারণ আগামী দিনের মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্ব তাদের হাতেই।”
সবশেষে সেহলী পারভীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“সংস্কৃতি ও মানবাধিকার একসঙ্গে এগোলে একটি সহনশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

হঠাৎ বিশ্বজুড়ে ফেসবুক ডাউন।

বিটিভির ক্যামেরায় কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা ও মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন–এর মতবিনিময়

Update Time : ০৯:৩২:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
Print

আরিফুল ইসলাম কাজল,সিনিয়র বিনোদন প্রতিনিধি:

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন–এর ক্যামেরায় ধরা পড়া এক বিশেষ আয়োজনে উপমহাদেশের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা এবং মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন–এর আন্তরিক মতবিনিময় ঘিরে মানবাধিকার ও সংস্কৃতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা উঠে এসেছে।
আলোচনায় মানবাধিকার প্রসঙ্গে সেহলী পারভীন বলেন, দেশে নারীর নিরাপত্তা, শিশু অধিকার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন,
“মানবাধিকার শুধু আইনের বিষয় নয়, এটি আমাদের সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতার অংশ। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম—সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গ্রামীণ পর্যায়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা এখনো অপ্রকাশিত থেকে যায়। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কর্মসূচি, সহজলভ্য আইনি সহায়তা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। বিশেষ করে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে দ্রুত বিচার, ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
এ সময় তিনি বলেন, প্রযুক্তির যুগে অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। সাইবার হয়রানি, গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের প্রসঙ্গ টেনে সেহলী পারভীন বলেন, শিল্প ও সংস্কৃতি মানুষের কণ্ঠস্বর তুলে ধরে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সহায়তা করে। তাই শিল্পীদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সৃজনশীলতার জন্য সহনশীল পরিবেশ তৈরি করা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
এ প্রসঙ্গে রুনা লায়লা বলেন,
“সংস্কৃতি মানুষের হৃদয়কে একত্র করে এবং সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সংগীত ও শিল্প মানুষের ভেতরের মানবিকতাকে জাগিয়ে তোলে এবং বিভেদ ভুলে একসঙ্গে চলার শক্তি দেয়। তরুণ প্রজন্মকে মানবিক মূল্যবোধ, সংস্কৃতি চর্চা এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে—কারণ আগামী দিনের মানবিক সমাজ গড়ার দায়িত্ব তাদের হাতেই।”
সবশেষে সেহলী পারভীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,
“সংস্কৃতি ও মানবাধিকার একসঙ্গে এগোলে একটি সহনশীল, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”