
স্টাফ রিপোর্টার:
এক সময় উত্তরাঞ্চলের শান্ত জনপদ হিসেবে পরিচিত ছিল বগুড়া। শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের জন্য পরিচিত এই জেলা এখন ক্রমেই ভয় ও আতঙ্কের নগরীতে পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। কেউ বলছেন “খুনের মহানগর”, আবার কেউ আরও কঠোর ভাষায় বলছেন “খুনের রাজধানী বগুড়া”।
সাম্প্রতিক সময়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। একই দিনে তিনটি হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা মানুষকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। চলতি বছরের ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি, অথচ গত বছরের তুলনায় হত্যাকাণ্ডের সংখ্যা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। সামান্য বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, মাদক, কিশোর গ্যাং কিংবা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব— নানা কারণে প্রকাশ্যে ঘটছে হত্যার মতো ভয়াবহ ঘটনা।
জনগণের অভিযোগ, অপরাধীরা দ্রুত জামিন পেয়ে আবার এলাকায় ফিরে আসছে। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার যেমন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে, তেমনি সাধারণ মানুষও মনে করছেন অপরাধের বিরুদ্ধে কার্যকর ভয় বা প্রতিরোধ কমে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল হয়ে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সরকারপ্রধান বারবার অপরাধ দমনে কঠোর হুঁশিয়ারি দিলেও স্থানীয় পর্যায়ে কেন পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হচ্ছে না— সেই প্রশ্নও এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে। মানুষের প্রত্যাশা, শুধু বক্তব্য নয়; মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অভিযান, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কারণ অপরাধ যখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়, তখন সমাজ ধীরে ধীরে ভয়ংকর অস্থিরতার দিকে এগিয়ে যায়।
এরই মধ্যে নতুন করে আলোচনায় এসেছে বগুড়াকে সিটি কর্পোরেশন ঘোষণা দিয়ে গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়েছে এবং সাথে কিছু যান বহনের ওপর কর আরোপের বিষয়টিও বলা হয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই বলছেন, নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত না করে শুধুমাত্র করের বোঝা চাপিয়ে দিলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ আরও চাপে পড়ে যাবে।
বিশেষ করে মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের কষ্ট সবচেয়ে বেশি বলেই মত প্রকাশ করেছেন অনেকে। তাদের ভাষ্য— গরিব মানুষ অন্তত সাহায্য চাইতে পারে, কিন্তু মধ্যবিত্তরা না পারে কারও কাছে হাত পাততে, না পারে নিজেদের সংকট প্রকাশ করতে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয় সংকট, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা এবং বাড়তি করের আশঙ্কা তাদের মানসিকভাবে আরও বিপর্যস্ত করে তুলছে।
একজন ক্ষুব্ধ নাগরিকের ভাষায়, “ইনকামের স্থায়ী উৎস না থাকলে মানুষ কর দেবে কীভাবে? শুধু নামের উন্নয়ন দিয়ে তো সংসার চলে না।”
আজ বগুড়ার মানুষ উন্নয়নও চায়, আবার নিরাপত্তাও চায়। তারা এমন একটি শহর চায় যেখানে সন্তান নিরাপদে স্কুলে যাবে, ব্যবসায়ী নিশ্চিন্তে দোকান খুলবে, আর সাধারণ মানুষ রাতের অন্ধকারে আতঙ্ক নিয়ে ঘরে ফিরবে না।
খুন, সন্ত্রাস, মাদক ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি যদি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়, তাহলে উন্নয়নের বড় বড় ঘোষণাও সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়বে— এমন আশঙ্কাই এখন সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে জনমনে।
Reporter Name 


















