ঢাকা ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম এখন সবজি বিক্রেতা,

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ১২ Time View
Print

শারমিন আরা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম এখন সবজি বিক্রেতা
তবুও অটুট দলের প্রতি তার ভালোবাসা ,

একসময় জেলা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। অথচ আজ জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি বিক্রি করছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পারিয়াট গ্রামের ওয়াসিম আকরাম।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম আকরাম নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলের প্রতি তার ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। বর্তমানে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও দলের প্রতি কোনো আক্ষেপ বা হতাশা নেই তার।

বরং দলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে রাজনীতির পাশাপাশি একটি কর্মকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীর একটি পেশা বা কর্ম থাকা জরুরি।

কারণ কর্মহীন অবস্থায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে অনেক সময় অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে কেউ কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

তিনি মনে করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করা নেতাকর্মীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাই রাজনীতির পাশাপাশি সবজি বিক্রির মতো সৎ পেশাকে বেছে নিয়েছেন তিনি।

তার কাছে পেশাটি কোনো লজ্জার নয়; বরং নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করাকে তিনি গর্বের বিষয় হিসেবে দেখেন।
দলের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ওয়াসিম আকরাম বলেন, যে দলের জন্য তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে কাটিয়েছেন,
সেই দলের পথচলা যেন সুদূরপ্রসারী হয়।

কেউ যেন দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড না করে—এটাই তার প্রত্যাশা। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের হাতকে শক্তিশালী করবেন।
ওয়াসিম আকরামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়নের পারিয়াট গ্রামে।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সবজি বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এই সাবেক ছাত্রনেতার জীবনযাপন স্থানীয়দের কাছেও একটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতি করা মানেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়; সৎভাবে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেও দলের জন্য কাজ করা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাংবাদিক সুরুজ আলীর মুক্তির দাবি রাজশাহী প্রেসক্লাবের, মামলাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ আখ্যা

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম এখন সবজি বিক্রেতা,

Update Time : ১১:৩৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Print

শারমিন আরা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি,

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম এখন সবজি বিক্রেতা
তবুও অটুট দলের প্রতি তার ভালোবাসা ,

একসময় জেলা ছাত্রদলের গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, জেল-জুলুম ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। অথচ আজ জীবিকা নির্বাহের জন্য সবজি বিক্রি করছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার পারিয়াট গ্রামের ওয়াসিম আকরাম।

জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওয়াসিম আকরাম নবম শ্রেণিতে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর থেকে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন তিনি। জেলা পর্যায়ের কর্মসূচির পাশাপাশি জেলার বাইরেও বিভিন্ন জাতীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি।

রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও দলের প্রতি তার ভালোবাসায় ভাটা পড়েনি। বর্তমানে সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করলেও দলের প্রতি কোনো আক্ষেপ বা হতাশা নেই তার।

বরং দলের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে রাজনীতির পাশাপাশি একটি কর্মকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি প্রত্যেক রাজনৈতিক কর্মীর একটি পেশা বা কর্ম থাকা জরুরি।

কারণ কর্মহীন অবস্থায় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে অনেক সময় অর্থনৈতিক চাহিদা পূরণে কেউ কেউ দলের নাম ব্যবহার করে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।

তিনি মনে করেন, দলের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করা নেতাকর্মীদের নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো প্রয়োজন। তাই রাজনীতির পাশাপাশি সবজি বিক্রির মতো সৎ পেশাকে বেছে নিয়েছেন তিনি।

তার কাছে পেশাটি কোনো লজ্জার নয়; বরং নিজের পরিশ্রমে উপার্জন করাকে তিনি গর্বের বিষয় হিসেবে দেখেন।
দলের প্রতি নিজের প্রত্যাশার কথা জানিয়ে ওয়াসিম আকরাম বলেন, যে দলের জন্য তিনি জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় আন্দোলন-সংগ্রামে কাটিয়েছেন,
সেই দলের পথচলা যেন সুদূরপ্রসারী হয়।

কেউ যেন দলের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা কোনো অনৈতিক কর্মকাণ্ড না করে—এটাই তার প্রত্যাশা। পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি আরও প্রত্যাশা করেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে দলের হাতকে শক্তিশালী করবেন।
ওয়াসিম আকরামের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার ৩ নম্বর কোলা ইউনিয়নের পারিয়াট গ্রামে।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি সবজি বিক্রির মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করা এই সাবেক ছাত্রনেতার জীবনযাপন স্থানীয়দের কাছেও একটি ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে—রাজনীতি করা মানেই অন্যের ওপর নির্ভরশীল হওয়া নয়; সৎভাবে নিজের কর্মসংস্থান তৈরি করেও দলের জন্য কাজ করা সম্ভব।