ঢাকা ০৪:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে আগাছানাশক স্প্রে, প্রায় ৯ একর পাটক্ষেত নষ্ট।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
  • ৪৯ Time View
Print

অতুল সরকার, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

জেলার বালিয়াকান্দিতে পাট ক্ষেতের পাশে, পরিত্যক্ত জমিতে আগাছানাশক ঔষধ স্প্রে করায় আশপাশের ৩২ কৃষকের প্রায় ৯ একর জমির পাট নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঐ এলাকার চাঁদ মিয়া’র বিরুদ্ধে

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ঔষুধ স্প্রে করার সময় প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি মানা হয়নি। স্প্রে করা ঔষুধ বাতাসে উড়ে আশপাশের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ পাখি জমির পাটক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাটগাছ লাল হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের মতে এখন এসব পাট আর স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন‍্যায‍্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চলতি মৌসুমে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ধুলাঘাট বিল এলাকায় উল্লেখ্যযোগ‍্য পরিমাণ পাট চাষ হয়েছে। পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল কাটার পর সেখানে পাট চাষ করা হয়। সম্প্রতি ওই মাঠে সারুটিয়া গ্রামের চাঁদ মিয়া তার জমিতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করেন। এর কিছুদিন পর আশপাশের জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন এলাকার কৃষকদের জমির পাট নষ্ট হতে শুরু করে।

ওষুধের প্রভাবে পাটগাছের পাতা কুঁকড়ে যায় এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে জমির মালিক ইজাজুল মল্লিক, সবুজ ঘোষ, ইউনুস মল্লিক, রুহুল আমিন, মিরাজ, মোতাহার, মোর্শেদ, বাবু, দুলা মল্লিক, রহমান শেখ, সোহেল শেখ, লিটন মিত্র, স্বপন মেম্বার, নিখিল মিত্র, আবু শেখ, জাকির শেখ, নাজমুল, মাফুজ, মানিক, বাবু শেখ, আবুল, মোফাজ্জেল, মতিন, আলী শেখ, আক্তার, মামুন, মাহাবুল, জিম, রেজাউল, নিজাম মোল্যা, তফিজুল, নাজির ও আনিস শেখের পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, “সারুটিয়া গ্রামের চাঁন মিয়া তার জমিতে পেঁয়াজ তোলার পর আগাছা পরিষ্কার করতে কী ওষুধ দিয়েছেন আমরা জানি না। কিন্তু এতে আমাদের সব পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এই মাঠের ৩০-৩৫ জন কৃষকের ৫০-৬০ পাখি জমির পাট নষ্ট হয়েছে। আমার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির পাট নষ্ট হয়েছে। পাটগাছের মাথাগুলো কুঁকড়ে গেছে, গাছ মোটা হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। এখন এই পাট আর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মিরপুর-১০ গোলচত্বরে জলাবদ্ধতা, চরম ভোগান্তিতে নগরবাসী

রাজবাড়ীতে আগাছানাশক স্প্রে, প্রায় ৯ একর পাটক্ষেত নষ্ট।

Update Time : ১২:৫৯:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
Print

অতুল সরকার, রাজবাড়ী প্রতিনিধিঃ

জেলার বালিয়াকান্দিতে পাট ক্ষেতের পাশে, পরিত্যক্ত জমিতে আগাছানাশক ঔষধ স্প্রে করায় আশপাশের ৩২ কৃষকের প্রায় ৯ একর জমির পাট নষ্ট হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঐ এলাকার চাঁদ মিয়া’র বিরুদ্ধে

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের দাবি, ঔষুধ স্প্রে করার সময় প্রয়োজনীয় নিয়মনীতি মানা হয়নি। স্প্রে করা ঔষুধ বাতাসে উড়ে আশপাশের প্রায় ৪০ থেকে ৬০ পাখি জমির পাটক্ষেতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাটগাছ লাল হয়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষকদের মতে এখন এসব পাট আর স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এ বিষয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন‍্যায‍্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

চলতি মৌসুমে বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ইউনিয়নের ধুলাঘাট বিল এলাকায় উল্লেখ্যযোগ‍্য পরিমাণ পাট চাষ হয়েছে। পেঁয়াজসহ অন্যান্য ফসল কাটার পর সেখানে পাট চাষ করা হয়। সম্প্রতি ওই মাঠে সারুটিয়া গ্রামের চাঁদ মিয়া তার জমিতে আগাছানাশক ওষুধ স্প্রে করেন। এর কিছুদিন পর আশপাশের জামালপুর ইউনিয়নের হাতিমোহন এলাকার কৃষকদের জমির পাট নষ্ট হতে শুরু করে।

ওষুধের প্রভাবে পাটগাছের পাতা কুঁকড়ে যায় এবং গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। এতে জমির মালিক ইজাজুল মল্লিক, সবুজ ঘোষ, ইউনুস মল্লিক, রুহুল আমিন, মিরাজ, মোতাহার, মোর্শেদ, বাবু, দুলা মল্লিক, রহমান শেখ, সোহেল শেখ, লিটন মিত্র, স্বপন মেম্বার, নিখিল মিত্র, আবু শেখ, জাকির শেখ, নাজমুল, মাফুজ, মানিক, বাবু শেখ, আবুল, মোফাজ্জেল, মতিন, আলী শেখ, আক্তার, মামুন, মাহাবুল, জিম, রেজাউল, নিজাম মোল্যা, তফিজুল, নাজির ও আনিস শেখের পাটক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মোতাহার হোসেন বলেন, “সারুটিয়া গ্রামের চাঁন মিয়া তার জমিতে পেঁয়াজ তোলার পর আগাছা পরিষ্কার করতে কী ওষুধ দিয়েছেন আমরা জানি না। কিন্তু এতে আমাদের সব পাট নষ্ট হয়ে গেছে। এই মাঠের ৩০-৩৫ জন কৃষকের ৫০-৬০ পাখি জমির পাট নষ্ট হয়েছে। আমার প্রায় ৩৫ শতাংশ জমির পাট নষ্ট হয়েছে। পাটগাছের মাথাগুলো কুঁকড়ে গেছে, গাছ মোটা হয়ে গেছে এবং স্বাভাবিকভাবে বাড়েনি। এখন এই পাট আর হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা সঠিক তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চাই।”