ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মব সহিংসতা রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
  • ৭১ Time View
Print

দৈনিক মাতৃজগত ডিজিটাল ডেস্ক:–
একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দায়িত্ব পালনের পথ অনেকটাই সহজ ও সুগম হয়ে যায়।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ দেখতে চায়, যেখানে জানমালের নিরাপত্তাহীনতা থাকবে না এবং অবিচার, অনাচার কিংবা নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় থাকবে না।

তিনি বলেন, এমন প্রত্যাশিত পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। প্রতিবছর আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ জনগণের আস্থা অর্জনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠুক বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জনমনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রমাণ করেছে যে, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাঁচবিবিতে ইউএনও ঝাড়ু হাতে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন

মব সহিংসতা রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৯:৪১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
Print

দৈনিক মাতৃজগত ডিজিটাল ডেস্ক:–
একটি রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পুলিশ যদি জনগণের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে, তাহলে দায়িত্ব পালনের পথ অনেকটাই সহজ ও সুগম হয়ে যায়।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে এসেছে। জনগণ এখন গুম, অপহরণ ও ভয়ের সংস্কৃতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র ও সমাজ দেখতে চায়, যেখানে জানমালের নিরাপত্তাহীনতা থাকবে না এবং অবিচার, অনাচার কিংবা নির্যাতন-নিপীড়নের ভয় থাকবে না।

তিনি বলেন, এমন প্রত্যাশিত পরিস্থিতি বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা ও জনগণের আস্থা রক্ষায় একটি পেশাদার ও দায়িত্বশীল পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। প্রতিবছর আয়োজিত পুলিশ সপ্তাহ জনগণের আস্থা অর্জনের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠুক বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা, সদস্য এবং অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তবে জনমনে নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত না হলে এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে পড়বে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সংকট ও প্রয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পুলিশের ভূমিকা প্রমাণ করেছে যে, উপযুক্ত পরিবেশ পেলে তারা দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ সক্ষম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ পুলিশ সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের গৌরবোজ্জ্বল অবদান বিশ্বে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি করেছে। তবে পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতায় পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এখন অত্যন্ত জরুরি।

তিনি আরও বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।

পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক সাফল্য ও সমৃদ্ধি কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।