ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে গলাচিপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরন, প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী নুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
  • ২৬ Time View
Print

​খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী প্রত্যয়কে সামনে রেখে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।

শনিবার (১৬ মে) বিকালে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলের চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবারিয়া বাজারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি ও সুধীজনদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হন। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা কামনা করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

​পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কার্ড বিতরণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে উদ্বোধনী পর্বেই তিনি চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বমোট ৮০৮ জন ভাগ্যবঞ্চিত ও অবহেলিত নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এস.এম শাহজাদা এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।

​এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গলাচিপা শাখার আমীর মো. জাকির হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান।

​অনুষ্ঠানে সংহতি ও তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা যুবঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ্ এনিম, ছাত্রঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. আবু নাঈম, চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মুন্সি এবং গণঅধিকার পরিষদের চরবিশ্বাস ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইলিয়াস মৃধা। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত কুশলতার সাথে সঞ্চালনা করেন গলাচিপা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম।

​অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার দিকনির্দেশনামূলক ও আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, উপকূলীয় প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী এবং সুরক্ষিত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই প্রকৃত অধিকারীদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। পরিশেষে, এই কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যশোরের মণিরামপুরে আম পাড়তে গিয়ে বিদ্যুৎস্পর্শে যুবকের মৃত্যু

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সে গলাচিপায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরন, প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী নুর

Update Time : ০২:৩৩:৩৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
Print

​খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:

‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’—এই দূরদর্শী ও কল্যাণমুখী প্রত্যয়কে সামনে রেখে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম।

শনিবার (১৬ মে) বিকালে গলাচিপা উপজেলা প্রশাসন ও সমাজসেবা কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় অঞ্চলের চরবিশ্বাস ইউনিয়নের বুধবারিয়া বাজারে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এই মানবিক ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।

​অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি ও সুধীজনদের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি যুক্ত হন। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে প্রধানমন্ত্রী উপকূলীয় অঞ্চলের প্রান্তিক মানুষের খোঁজখবর নেন এবং ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সার্বিক সফলতা কামনা করে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

​পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কার্ড বিতরণ উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর।

প্রধানমন্ত্রীর ভার্চুয়াল উপস্থিতিতে উদ্বোধনী পর্বেই তিনি চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বমোট ৮০৮ জন ভাগ্যবঞ্চিত ও অবহেলিত নারীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফ্যামিলি কার্ড তুলে দিয়ে কার্যক্রমের শুভ সূচনা করেন।

​অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য ও দিকনির্দেশনা প্রদান করেন পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এস.এম শাহজাদা এবং গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবুজর মো. ইজাজুল হক।

​এছাড়াও আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গলাচিপা থানার ভারপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মো. জিলোন সিকদার, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মেজবাহ উদ্দিন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মো. গোলাম মোস্তফা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গলাচিপা শাখার আমীর মো. জাকির হোসেন এবং গণঅধিকার পরিষদের গলাচিপা উপজেলা শাখার সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান।

​অনুষ্ঠানে সংহতি ও তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে আরও উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী জেলা যুবঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. মহিবুল্লাহ্ এনিম, ছাত্রঅধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মো. আবু নাঈম, চরবিশ্বাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বাবুল মুন্সি এবং গণঅধিকার পরিষদের চরবিশ্বাস ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মো. ইলিয়াস মৃধা। সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত কুশলতার সাথে সঞ্চালনা করেন গলাচিপা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম।

​অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর তার দিকনির্দেশনামূলক ও আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, উপকূলীয় প্রান্তিক অঞ্চলের প্রতিটি পরিবারকে স্বাবলম্বী এবং সুরক্ষিত করাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য। ফ্যামিলি কার্ডের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই প্রকৃত অধিকারীদের হাতে এই সুবিধা পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। পরিশেষে, এই কার্যক্রমকে সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সর্বস্তরের জনগণকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।