ঢাকা ১০:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা ও চাঁদা দাবির মামলায় নারী গ্রেপ্তার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৭ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবন গ্রামের এক নারীর বিরুদ্ধে প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার চেষ্টা, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং একাধিক ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মামলার বাদী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসাইন ।
লিখিত বক্তব্যে আলী হোসাইন বলেন, তার বড় ভাই মো. আলী নুর দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জোতরাবন গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, প্রিয়া খাতুন তার পূর্বের বিবাহ ও একটি সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রেখে বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাইকে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি যাচাই করতে গত ১৭ জুলাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা প্রিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা জানতে পারেন। এরপর তারা ফিরে আসতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রিয়া খাতুন, তার বাবা শুকুর আলী বাবু, মা কাজল রেখাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদী ও তার স্বজনদের মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাদী কৌশলে বের হয়ে দামকুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ১৭ জুলাই রাতে দামকুড়া থানায় মামলা (মামলা নং ০৯) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া খাতুনের সাবেক স্বামী আবুল কালাম আজাদ রিংকুর বিরুদ্ধে যৌতুক, হত্যা চেষ্টা, মারধরসহ প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি ও একজন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, তাদেরও বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, প্রবাসীকে প্রতারণার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই নারী পূর্বেও একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা ও চাঁদা দাবির মামলায় নারী গ্রেপ্তার

Update Time : ০২:৩০:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক :
রাজশাহীর দামকুড়া থানার জোতরাবন গ্রামের এক নারীর বিরুদ্ধে প্রবাসীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণার চেষ্টা, ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং একাধিক ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে বিভাগীয় প্রেসক্লাব রাজশাহীর সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন মামলার বাদী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা মো. আলী হোসাইন ।
লিখিত বক্তব্যে আলী হোসাইন বলেন, তার বড় ভাই মো. আলী নুর দীর্ঘ আট বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। প্রায় চার মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জোতরাবন গ্রামের বাসিন্দা প্রিয়া খাতুনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
তিনি আরও বলেন, প্রিয়া খাতুন তার পূর্বের বিবাহ ও একটি সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন রেখে বিভিন্ন মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে তার ভাইকে বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি যাচাই করতে গত ১৭ জুলাই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তারা প্রিয়ার বাড়িতে যান। সেখানে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রিয়ার বিরুদ্ধে একাধিক ব্যক্তিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের কথা জানতে পারেন। এরপর তারা ফিরে আসতে চাইলে অভিযুক্তরা তাদের পথরোধ করে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রিয়া খাতুন, তার বাবা শুকুর আলী বাবু, মা কাজল রেখাসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজন তাদের আটকে রেখে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাদী ও তার স্বজনদের মারধর করা হয় এবং ভয়ভীতি দেখানো হয়। পরে বাদী কৌশলে বের হয়ে দামকুড়া থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরুদ্ধদের উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ১৭ জুলাই রাতে দামকুড়া থানায় মামলা (মামলা নং ০৯) দায়ের করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রিয়া খাতুনের সাবেক স্বামী আবুল কালাম আজাদ রিংকুর বিরুদ্ধে যৌতুক, হত্যা চেষ্টা, মারধরসহ প্রায় ১৯টি মামলা রয়েছে। এছাড়া তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি ও একজন সরকারি কর্মকর্তা দাবি করেন, তাদেরও বিভিন্নভাবে ফাঁসিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধেও মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে দামকুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, প্রবাসীকে প্রতারণার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার আসামিকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ওই নারী পূর্বেও একাধিক ব্যক্তিকে ফাঁসিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।