ঢাকা ০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতের চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ব্যবসায়ীদের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৪৫ Time View
Print

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পর তারা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন।
একজন ফল বিক্রেতা বলেন,
“আমরা অনেকদিন পর একটু শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে নানা ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেসব নেই। কেউ এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখায় না।”
আরেকজন হকার বলেন,
“বর্তমান সরকার আসার পর থেকে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। আগে যেসব সমস্যা ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আমরা প্রতিদিন যা বিক্রি করি, সেটাই আমাদের আয়—এখানে কাউকে আলাদা করে কোনো টাকা দিতে হয় না।”
ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে পরিশোধ করা হয়। এটি ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয় বলে তারা জানান।
একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,
“আমরা শুধু ৩০ টাকা করে কারেন্টের লাইট বিল দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।”
হকার সমিতির এক সদস্য জানান,
“সমিতি নিয়ম মেনে সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এতে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। এখানে অবৈধ কোনো অর্থ আদায়ের প্রশ্নই আসে না।”
ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,
“ফুটপাতে আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কেউ কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তি করছে—এমন কিছু আমরা দেখিনি।”
আরেকজন হকার বলেন,
“যদি কোথাও সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে বলতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি।”
কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুর-১০ ফুটপাতে চাঁদা তোলা হচ্ছে—এমন কিছু পোস্ট দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা দাবি করেনি।
একজন দোকানদার বলেন,
“আমরা কিছুদিন ধরে শুনতে পাচ্ছি চাঁদা তোলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা চাইতে আসেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।”
আরেকজন ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন,
“গুজব ছড়ালে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও ভয়ে আসতে চায় না।”
একজন ভ্যানগাড়ি চালক বলেন,
“আমরা সারাদিন কষ্ট করে রোজগার করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।”
ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন,
“আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ অনেক ভালো।”
স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা এখন সহজ হয়েছে।
একজন পথচারী বলেন,
“আগে হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।”
আরেকজন বলেন,
“ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।”
স্থানীয়দের মতে, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষও ভুল ধারণার শিকার হন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন,
“আমাদের অনুরোধ—যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।”
হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করার জন্য।
তারা বলেন,
“যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে।”
স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ডিমলায় ভিজিএফ এর চাল বিতরণ ।

মিরপুর-১০ নম্বর ফুটপাতের চাঁদাবাজির অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি ব্যবসায়ীদের

Update Time : ১২:২৪:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Print

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ব্যস্ততম বাণিজ্যিক ও জনবহুল এলাকা মিরপুর-১০ নম্বরের ফুটপাত ঘিরে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মহলে ওঠা চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও গুজব বলে দাবি করেছেন স্থানীয় হকার ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরেজমিনে এলাকাটি ঘুরে ব্যবসায়ী, পথচারী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্যই পাওয়া গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে তারা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি ও নিরাপত্তার মধ্যে ব্যবসা পরিচালনা করছেন এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কাছে জোরপূর্বক অর্থ দিতে হচ্ছে না। দীর্ঘদিন পর তারা একটি স্থিতিশীল পরিবেশে ব্যবসা করতে পারছেন বলেও মন্তব্য করেন।
একজন ফল বিক্রেতা বলেন,
“আমরা অনেকদিন পর একটু শান্তিতে ব্যবসা করছি। আগে নানা ধরনের ঝামেলা ছিল, এখন সেসব নেই। কেউ এসে আমাদের ভয়ভীতি দেখায় না।”
আরেকজন হকার বলেন,
“বর্তমান সরকার আসার পর থেকে আমরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারছি। আগে যেসব সমস্যা ছিল, এখন সেই পরিস্থিতি নেই। আমরা প্রতিদিন যা বিক্রি করি, সেটাই আমাদের আয়—এখানে কাউকে আলাদা করে কোনো টাকা দিতে হয় না।”
ব্যবসায়ীরা জানান, সন্ধ্যার পর দোকানপ্রতি ৩০ টাকা করে বিদ্যুৎ বিল বাবদ অর্থ হকার সমিতির কাছে পরিশোধ করা হয়। এটি ফুটপাতের দোকানগুলোতে ব্যবহৃত লাইটের বিদ্যুৎ খরচ ও কিছু যৌথ ব্যবস্থাপনার জন্য নেওয়া হয় বলে তারা জানান।
একজন পোশাক বিক্রেতা বলেন,
“আমরা শুধু ৩০ টাকা করে কারেন্টের লাইট বিল দিই। এটা সমিতির নিয়ম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এর বাইরে কোনো ধরনের চাঁদা নেই।”
হকার সমিতির এক সদস্য জানান,
“সমিতি নিয়ম মেনে সীমিত পরিসরে কিছু যৌথ খরচের জন্য অর্থ সংগ্রহ করে। এতে আলো, পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো দেখভাল করা হয়। এখানে অবৈধ কোনো অর্থ আদায়ের প্রশ্নই আসে না।”
ফুটপাতের এক চা বিক্রেতা বলেন,
“ফুটপাতে আমরা সবাই মিলেমিশে ব্যবসা করি। কেউ কোনো ধরনের চাপ বা জোরজবরদস্তি করছে—এমন কিছু আমরা দেখিনি।”
আরেকজন হকার বলেন,
“যদি কোথাও সমস্যা থাকত, আমরা নিজেরাই আগে বলতাম। কিন্তু এখন পরিস্থিতি ভালো। তাই এসব অভিযোগ শুনে আমরা অবাক হয়েছি।”
কয়েকজন দোকানদার জানান, সম্প্রতি তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিরপুর-১০ ফুটপাতে চাঁদা তোলা হচ্ছে—এমন কিছু পোস্ট দেখেছেন। তবে বাস্তবে তাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা দাবি করেনি।
একজন দোকানদার বলেন,
“আমরা কিছুদিন ধরে শুনতে পাচ্ছি চাঁদা তোলা হচ্ছে, কিন্তু আমাদের কাছে কেউ কখনও চাঁদা চাইতে আসেনি। এটা সম্পূর্ণ গুজব।”
আরেকজন ব্যবসায়ী মন্তব্য করেন,
“গুজব ছড়ালে আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হয়। মানুষ ভুল ধারণা পোষণ করলে ক্রেতারাও ভয়ে আসতে চায় না।”
একজন ভ্যানগাড়ি চালক বলেন,
“আমরা সারাদিন কষ্ট করে রোজগার করি। আমাদের নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো হলে সেটা আমাদের জন্য খুব কষ্টের।”
ফুটপাতের এক পুরনো ব্যবসায়ী বলেন,
“আগে বিশৃঙ্খলা বেশি ছিল। এখন সবাই নিজ নিজ জায়গায় বসে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছে। পরিবেশ অনেক ভালো।”
স্থানীয় পথচারীদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় ফুটপাত দিয়ে হাঁটা এখন সহজ হয়েছে।
একজন পথচারী বলেন,
“আগে হাঁটতে কষ্ট হতো, এখন অনেকটাই স্বাভাবিক। পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো মনে হচ্ছে।”
আরেকজন বলেন,
“ফুটপাত এখন তুলনামূলকভাবে গোছানো। সন্ধ্যার পর আলো থাকায় চলাচলও নিরাপদ মনে হয়।”
স্থানীয়দের মতে, গুজব ছড়িয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে ব্যবসায়ীরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সাধারণ মানুষও ভুল ধারণার শিকার হন।
একজন ব্যবসায়ী বলেন,
“আমাদের অনুরোধ—যাচাই ছাড়া যেন কেউ কোনো তথ্য প্রচার না করেন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়।”
হকাররা প্রশাসনের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন, এ ধরনের গুজব ছড়ানো বন্ধে নজরদারি জোরদার করার জন্য।
তারা বলেন,
“যদি কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ায়, তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা স্বস্তিতে থাকতে পারবে।”
স্থানীয়দের আশা, ভবিষ্যতেও মিরপুর-১০ ফুটপাতে বর্তমান স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকবে এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।