ঢাকা ০৫:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠা নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই যাত্রীকে ছুরি মারলেন ট্রেন কর্মচারী দুই যাত্রী আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৭ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনে ট্রেনে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখান থেকে সরে যান ট্রেনের লোকোমাস্টার ও টিটিই।
আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার কোর্ট স্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসে।
আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা শফিউল্লাহ ও আব্দুর রহিম। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ট্রেনটির ‘খ’ বগিতে ওঠার সময় ভেতরে থাকা এক কর্মচারীর সঙ্গে দুই যাত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। পরে সহযাত্রী ও স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেন ছেড়ে চলে যান লোকোমাস্টার ও ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অফিসে থাকা অবস্থায় হট্টগোলের শব্দ শুনে তারা বাইরে এসে জানতে পারেন, ট্রেনের এক কর্মচারীর হামলায় দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
ইউএনও হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আহত যাত্রীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মনপুরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন গতি,

কুষ্টিয়ায় ট্রেনে ওঠা নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই যাত্রীকে ছুরি মারলেন ট্রেন কর্মচারী দুই যাত্রী আহত

Update Time : ১১:১৭:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:

কুষ্টিয়া কোর্ট রেলস্টেশনে ট্রেনে দুই যাত্রীকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে ট্রেনটি প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখেন ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেখান থেকে সরে যান ট্রেনের লোকোমাস্টার ও টিটিই।
আজ শনিবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে ঘটনাটি ঘটে কুষ্টিয়ার কোর্ট স্টেশনে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেসে।
আহতরা হলেন চুয়াডাঙ্গার বাসিন্দা শফিউল্লাহ ও আব্দুর রহিম। কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হাসান জানিয়েছেন, আহত দুজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, ট্রেনটির ‘খ’ বগিতে ওঠার সময় ভেতরে থাকা এক কর্মচারীর সঙ্গে দুই যাত্রীর কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই কর্মচারী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে পালিয়ে যান। পরে সহযাত্রী ও স্থানীয়রা আহত দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ট্রেনটি আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন আহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ট্রেন ছেড়ে চলে যান লোকোমাস্টার ও ট্রাভেলিং টিকিট পরীক্ষক (টিটিই)।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হারুন অর রশিদ এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) প্রণব কুমার সরকার। তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
কুষ্টিয়া কোর্ট স্টেশনের ইনচার্জ ইতি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘অফিসে থাকা অবস্থায় হট্টগোলের শব্দ শুনে তারা বাইরে এসে জানতে পারেন, ট্রেনের এক কর্মচারীর হামলায় দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। পরে তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।’
ইউএনও হারুন অর রশিদ জানিয়েছেন, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বেলা ২টা ১৫ মিনিটে ট্রেনটি খুলনার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। আহত যাত্রীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।