
মোঃ আতাউর রহমান মুকুল, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার: গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের ঐতিহ্যবাহী মীরগঞ্জ হাটে অবৈধভাবে সার মজুতের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) মীরগঞ্জ হাটের কুঞ্জ ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে সার মজুতের খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইফফাত জাহান তুলি। পরে ঘটনাস্থলে সার মজুতের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির মালিক কৃষ্ণ সাহাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় ইউএনও ইফফাত জাহান তুলি ব্যবসায়ীকে সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল কাইয়ুম, সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ এবং কৃষি বিভাগের উপসহকারী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা। এদিকে, সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে সার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও বিভিন্ন ইউনিয়নে সার বিতরণ করা হয়। তবে উপজেলার ৩ নম্বর তারাপুর ইউনিয়ন ও বামনডাঙ্গা ইউনিয়নে সার নিতে আসা কৃষকদের সঙ্গে ডিলারদের তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে কিছু সময়ের জন্য সার বিতরণ বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুল কাইয়ুম ও সুন্দরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ শাহীন মোহাম্মদ আমানউল্লাহ সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন এবং পুনরায় সার বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। সার নিতে আসা এক ভুক্তভোগী কৃষক অভিযোগ করে বলেন, বর্তমানে আমন ধান চাষের গুরুত্বপূর্ণ সময়। জমিতে সার প্রয়োগের সময় হলেও কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও ডিলারের কারণে কৃষকদের হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত সার থাকার পরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কৃষকদের দুর্ভোগে ফেলার অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। কৃষকরা যাতে কোনো হয়রানি ছাড়াই ন্যায্য মূল্যে প্রয়োজনীয় সার সংগ্রহ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি। স্থানীয় কৃষকদের দাবি, আমন মৌসুমে সার নিয়ে যাতে কৃত্রিম সংকট, মজুতদারি, অতিরিক্ত দাম আদায় কিংবা হয়রানির ঘটনা না ঘটে, সেজন্য নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৃষকদের স্বার্থে সার বিতরণ ব্যবস্থায় কোনো অনিয়ম বা অবৈধ মজুতের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 



















