
আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরা সদরের গড়িয়াডাঙা গ্রামে জমির আইল কেটে পানি বের করে নেওয়াকে কেন্দ্র করে ভাতিজার লাঙ্গলের ঈশ এর আঘাতে জিতেন্দ্র নাথ ম-ল নামের এক কৃষকের মৃত্যুর ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর, রবিবার রাতে নিহতের ছেলে হাজেরা ম-ল বাদি হয়ে চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এ ঘটনায় সোমবার সকালে বাড়িতে ক্ষমা চাইতে আসা সীতা রানী ম-লকে বাড়িতে আটকে রেখে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার আসামীরা হলেন, গড়িয়াডাঙা গ্রামের একই পরিবারের ভবেন ম-ল, তপন ম-ল, তাদের বাব বৃদ্ধ পাঁচু ম-ল ও মা সীতা রানী ম-ল। নিহত জিতেন্দ্র নাথ ম-ল (৫৬) সাতক্ষীরা সদর উপজেলার গড়িয়াডাঙা গ্রামের ছিরু ম-লের ছেলে। মামলা ও ঘটনার বিবরণে জানা যায়, জিতেন ম-লের ধানের ক্ষেতের নীচে বড় ভাই পাঁচু ম-লের কৃষি জমি রয়েছে। জিতেনের জমিতে ধান লাগানো হলেও পাঁচু ম-লের জমিতে পানির অভাবে ধান লাগাতে পারেনি। একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে পাঁচু ম-লের ছেলে ভগেন ম-ল ও তপন ম-ল কাউকে না জানিয়ে জমির আইল কেটে সমস্ত পানি পাঁচু জমিতে নামিয়ে নিলে নিতেন ম-লের ক্ষেত জলশূন্য হয়ে যায়। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিতেন ম-ল এসে আইল কাটার প্রতিবাদ করায় পাঁচু ম-ল ও শিখা রানী ম-লের নির্দেশে লাঙ্গলের ঈশ দিয়ে ভবেন ম-ল ও তপন ম-ল বাবার মাথায় আঘাত করে। শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শনিবার চারাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভবেন ও তপন ভারতের আমুদিয়া বিএসএফ ক্যাম্পের টহলরত সদস্যদের হাতে আটক হয়ে কারাগারে রয়েছে। দেবহাটা উপজেলার চাঁদখালি গ্রামের পরিমল ম-লের স্ত্রী ফুলঝুরি ম-ল জানান, কাকা জিতেন ম-লের মৃত্যুর সঙ্গে তার দুই ভাই জড়িত থাকার অভিযোগ করে হাজেরা ম-ল প্রথমে সাংবাদিকদের জানালেও রবিবার রাতে তার বাবা পাঁচু ম-ল ও মা সীতা রানী ম-লকে জড়িয়ে দুই ভাইসহ চার জনের নামে মামলা করেছে। পুরুষশূন্য বাড়িতে রবিবার সন্ধ্যায় তিনি মা ও ভাইয়ের স্ত্রীদের সাথে দেখা করতে যান। বাবা জখম হওয়ায় তাকে দেখতে যাওয়ায় ভাই তপনের স্ত্রী অঞ্জলিকে বাড়িতে পাননি। একপর্যায়ে সোমবার সকাল ৬টার দিকে মাকে নিয়ে তিনি কাকিমা জিতেন ম-লের স্ত্রীর কাছে যান। তার পায়ে ধরে ক্ষমা চান তিনি ও মা। একপর্যায়ে হাজেরা ম-ল তাদেরকে উঠান থেকে ঘরে ডেকে নিয়ে আটক রাখে। খবর পেয়ে এলাকার বহু মানুষ ওই বাড়িতে চলে আসে। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ আসামী হিসেবে মাকে সকাল ১০টার দিকে থানায় নিয়ে যায়। তাকে বাড়িতে যেতে বলা হয়। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় ভবেনের স্ত্রী প্রতিবেশি গোবিন্দ ম-ল ও বিশ্বজিৎ ম-লের বাড়িতে গেলে হাজেরা ম-লের লোকজন তাদেরকেও হুমকি দিচ্ছে। ১০০ আঁটিরও বেশি ভেজানো পাট না ধোয়ার জন্য সোমবার সকালে শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহামুদুর রহমান জানান, জিতেন ম-ল হত্যার ঘটনায় ছেলে হাজেরা ম-ল বাদি হয়ে রবিবার রাতে ভবেন ম-লসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। বাদির বাড়িতে আটককৃত আসামী সীতা রানী ম-লকে উদ্ধার করে সোমবার বিকেলে আদালতের মধ্যেমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যে কোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশি নজরদারি রয়েছে।
Reporter Name 























