
শারমিন আরা, ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি: ২৪/৮/২০২৬ সুদের টাকার জেরে এক তরুণীর আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত সহিংসতায় চরম বিপাকে পড়েছে কোনো অপরাধে যুক্ত না থাকা একটি অসহায় পরিবার। মূল অভিযুক্তের বোন ও তাঁর এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে নন্দিনীর মাথা গোঁজার ঠাঁই ও লেখাপড়া এক রাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। এলাকাবাসীর হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর এখন তাঁরা এক কাপড়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুদের ব্যবসায়ী রুমার কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন অর্পিতা (২০) নামে এক তরুণীর মা। গত দুই বছর ধরে নিয়মিত সুদের টাকা দেওয়ার পরও ঋণের বোঝা কমেনি, এমনকি গয়না বিক্রি করেও তা পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, রুমা আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে অর্পিতার মাকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা আদায় করে আসছিলেন। অর্পিতা বিষয়টি জানতে পেরে নিজ গয়না বিক্রি করে মায়ের ঋণ শোধের চেষ্টা করেন। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় গয়না না পেয়ে অর্পিতার স্বামী তাঁর বাবাকে বিষয়টি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে অর্পিতার বাবা মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে গালমন্দ করেন এবং বিষপানের চেষ্টা চালান। বাবার এমন অপমান সহ্য করতে না পেরে গত ২০ আগস্ট গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন অর্পিতা। অর্পিতার মৃত্যুর পর সুদের ব্যবসায়ী রুমাকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হলে তিনি পলাতক হন। তবে আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত এলাকাবাসী রুমার বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। এই সহিংসতার বলি হতে হয় রুমার বাড়িতে গত ২০ বছর ধরে আশ্রিত তাঁর বোন ও ভাগ্নি নন্দিনীকে। এলাকাবাসী তাঁদের এক কাপড়ে ঘর থেকে বের করে দেয়। অভিযোগ উঠেছে, নন্দিনীর মা পরের বাড়িতে কাজ করে মেয়ের ভবিষ্যতের জন্য জমানো কিছু অর্থ ও অল্প গয়না ঘরে গচ্ছিত রেখেছিলেন, যা হামলাকারীরা লুট করে নিয়ে যায়। একই সঙ্গে পুড়িয়ে দেওয়া হয় আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার জন্য রাখা নন্দিনীর বই-খাতা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র। কোনো অপরাধে জড়িত না থেকেও বর্তমানে নন্দিনী ও তাঁর মা সম্পূর্ণ গৃহহীন ও নিঃস্ব। থাকার জায়গা না থাকায় এবং পড়ার বইপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যাওয়ায় নন্দিনীর পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষা ও বেঁচে থাকার তাগিদে নির্দোষ নন্দিনী ও তাঁর অসহায় মা পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় এলাকাবাসী এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জরুরি সহায়তা ও মানবিক হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
Reporter Name 


















