
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপায় অবৈধভাবে বন্যপ্রাণী পাচারের সময় বিপুল পরিমাণ সংরক্ষিত কচ্ছপসহ এক পাচারকারীকে হাতেনাতে আটক করেছে বন বিভাগ। অভিযানে ১৭টি বিলুপ্তপ্রায় ‘সন্ধি কচ্ছপ’ উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের খেওয়াঘাট সংলগ্ন পানবাজার এলাকায় বন্যপ্রাণী পাচারের গোপন সংবাদ পায় বন বিভাগ। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ২টার পর গলাচিপা রেঞ্জ অফিসার নয়ন মিস্ত্রীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম সেখানে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে পাটের বস্তায় করে কচ্ছপ নিয়ে পালানোর চেষ্টাকালে মোঃ রেজাউল মৃধা (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। আটককৃত রেজাউল রাঙ্গাবালী উপজেলার মরাজাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা। পরে তার সাথে থাকা বস্তা তল্লাশি করে ১৭টি জীবিত সন্ধি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলোর মোট ওজন আনুমানিক ১০ কেজি, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১২,০০০ টাকা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রেজাউল স্বীকার করেছেন যে, বিক্রির উদ্দেশ্যেই তিনি কচ্ছপগুলো পরিবহন করছিলেন। ঘটনা প্রসঙ্গে গলাচিপা রেঞ্জ অফিসার নয়ন মিস্ত্রী বলেন, “সন্ধি কচ্ছপ বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে সম্পূর্ণ সংরক্ষিত একটি প্রজাতি। এটি ধরা, কেনাবেচা বা পরিবহন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ও বন্যপ্রাণী পাচার রোধে আমাদের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। যেকোনো পাচারের তথ্য থাকলে দ্রুত বন বিভাগকে জানানোর অনুরোধ করছি।” এ ঘটনায় আটককৃত রেজাউল মৃধার বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন, ২০১২-এর ১০/৩৪(খ) ধারায় গলাচিপা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত কচ্ছপগুলো অবমুক্ত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগ।
Reporter Name 


















