ঢাকা ০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র কারখানার সন্ধান, মিন্টু বাহিনীর প্রধান আটক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ২১ Time View
Print

ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮)কে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ এ অভিযানের তথ্য বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হোয়ানকের কেরুনতলী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। পাশাপাশি চক্রটি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

অভিযানে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ইমাম হোসেন মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জলদস্যুতা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, মিন্টুর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

মহেশখালীতে কোস্ট গার্ডের অভিযানে অস্ত্র কারখানার সন্ধান, মিন্টু বাহিনীর প্রধান আটক

Update Time : ০২:৪১:০৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
Print

ফরহাদ রহমান স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক ইউনিয়নের কেরুনতলী সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ সময় কুখ্যাত ‘মিন্টু বাহিনী’র প্রধান ইমাম হোসেন মিন্টু (৩৮)কে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে কোস্ট গার্ড স্টেশন শাহপরী, টেকনাফ, বাহারছড়া, ইনানী, কক্সবাজার ও মহেশখালীর সমন্বয়ে পরিচালিত বিশেষ এ অভিযানের তথ্য বিকেলে গণমাধ্যমকে জানান কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন।

কোস্ট গার্ড জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হোয়ানকের কেরুনতলী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে একটি সশস্ত্র চক্র অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করছে। পাশাপাশি চক্রটি জলদস্যুতা, পর্যটকদের ওপর হামলা, ডাকাতি এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থেকে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।

অভিযানে ৫টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ৯টি দেশীয় পিস্তল, ১টি বিদেশি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ২০ রাউন্ড তাজা গুলি, ১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, একটি দেশীয় অস্ত্র, ৩ লিটার দেশীয় মদ এবং আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

আটক ইমাম হোসেন মিন্টু মহেশখালীর হোয়ানক এলাকার বাসিন্দা। কোস্ট গার্ডের দাবি, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘মিন্টু বাহিনী’র নেতৃত্ব দিয়ে অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা, জলদস্যুতা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। তার বিরুদ্ধে ১৫টি ফৌজদারি মামলা রয়েছে।

কোস্ট গার্ডের ভাষ্য, মিন্টুর গ্রেপ্তারের মাধ্যমে উপকূলীয় এলাকায় অবৈধ অস্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ নেটওয়ার্কে আঘাত হানা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে জেলে ও লবণচাষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

জব্দ করা অস্ত্র-গোলাবারুদ ও আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কোস্ট গার্ড আরও জানিয়েছে, সুন্দরবনে জলদস্যু দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ধারাবাহিকতায় মহেশখালীসহ দেশের অন্যান্য উপকূলীয় অঞ্চলেও জলদস্যুতা, সন্ত্রাস, ডাকাতি, অবৈধ অস্ত্র তৈরি ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।