ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ মার্চের আগে রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের কেন একত্রিত করা হয়েছিল, তা গবেষণার দাবি রাখে: প্রধানমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
  • ৪০ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:–
১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় এসে জড়ো হচ্ছিল। সেই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল— এ বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত— আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে এখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী পরিকল্পনা বা কৌশল ছিল— এটি এখনো মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশের প্রতিরোধ এবং চট্টগ্রামে মেজর জিয়া-এর “উই রিভোল্ট” ঘোষণা স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও বেগবান ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, “আজকের বর্ণিল প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। আর জনগণের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এটিই সরকারের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।”

দেশের জনগণের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২৫ মার্চের আগে রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের কেন একত্রিত করা হয়েছিল, তা গবেষণার দাবি রাখে: প্রধানমন্ত্রী

২৫ মার্চের আগে রাজারবাগে পুলিশ সদস্যদের কেন একত্রিত করা হয়েছিল, তা গবেষণার দাবি রাখে: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ০৭:৫২:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১১ মে ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:–
১৯৭১ সালের উত্তাল মার্চে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় এসে জড়ো হচ্ছিল। সেই চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে দেশের সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একত্রিত করে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী যুক্তি বা কৌশল কাজ করেছিল— এ বিষয়টি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (১০ মে) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স-এ পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রজন্ম থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত— আমরা যারা ইতিহাস পড়ে কিংবা বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জেনেছি, তাদের মনে এখনো মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১ সালের মার্চে স্বাধীনতাকামী মানুষের মনে যখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং পশ্চিম পাকিস্তান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার সৈন্য ঢাকায় আনা হচ্ছিল, তখন সব পুলিশ সদস্যকে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে একসঙ্গে রাখার পেছনে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের কী পরিকল্পনা বা কৌশল ছিল— এটি এখনো মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধানের বিষয় হতে পারে।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধে রাজারবাগ পুলিশের প্রতিরোধ এবং চট্টগ্রামে মেজর জিয়া-এর “উই রিভোল্ট” ঘোষণা স্বাধীনতার সংগ্রামকে আরও বেগবান ও অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছিল।

তিনি বলেন, “আজকের বর্ণিল প্যারেড শুধু আনুষ্ঠানিক আয়োজন নয়; এটি পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা, আত্মমর্যাদা, দায়িত্ববোধ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের রায়ে বর্তমান সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বহু বছর ধরে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষ এখন শান্তি ও নিরাপত্তা চায়। আর জনগণের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।”

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপনাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এটিই সরকারের প্রত্যাশা।”

তিনি আরও বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রমাণ করেছে যে বাংলাদেশ পুলিশ দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম। শুধু দেশেই নয়, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও বাংলাদেশ পুলিশ সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় আমাদের পুলিশ সদস্যরা সাহসিকতা, মানবিকতা ও পেশাদারিত্বের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের ভূমিকাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।”

দেশের জনগণের সঙ্গে পুলিশের মানবিক আচরণের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।