ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট, চুলা না জ্বলায় খেতে হচ্ছে রেস্তোরাঁর খাবার।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • ৬৭ Time View
Print

এস এম জসিমঃ বিশেষ প্রতিনিধি -চট্টগ্রাম
তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

গ্যাস-সংকট নগরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিশেষ করে সকালের রুটিন ওলট–পালট করে দিয়েছে।

নগরের জামালখান লেনের বাসিন্দা শুভেচ্ছা ঘোষ তার স্কুলগামী সন্তানের জন্য নাশতা তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর থেকে গ্যাস থাকছে না। কিন্তু আজ সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। নাশতা না খাইয়ে সন্তানকে কীভাবে স্কুলে পাঠাব? একবার সকালে গ্যাস গেলে বিকেল ৩টার আগে আর আসে না। আবার ৫টায় গিয়ে রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে।’

গ্যাস-সংকটের কারণে পরিবারের খাওয়াদাওয়ার সময়সূচি পাল্টে যাওয়ার কথা জানান আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা ইশরাত জাহান।

ভুক্তভোগীরা জানান রাত ১২টার আগে আমরা রান্না করতে পারি না। দুপুরের খাবার রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকাতেও বহু মানুষকে বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

তজুমদ্দিনে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন, শাহজাহান মিয়ার দাবি ‘আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা-বানোয়াট প্রচারণা

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট, চুলা না জ্বলায় খেতে হচ্ছে রেস্তোরাঁর খাবার।

Update Time : ০৩:১০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
Print

এস এম জসিমঃ বিশেষ প্রতিনিধি -চট্টগ্রাম
তীব্র গ্যাস-সংকটে বিপাকে পড়ছেন চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ। অনেকের বাড়িতে রান্নার গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে রেস্তোরাঁর খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। এমনকি শিল্প উৎপাদন ও সিএনজি পাম্পগুলোতেও এর প্রভাব পড়ছে।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (কেজিডিসিএল) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) আগুন লাগার পর থেকেই সংকট শুরু হয়। ওই ঘটনার পর গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

গ্যাস-সংকট নগরের বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, বিশেষ করে সকালের রুটিন ওলট–পালট করে দিয়েছে।

নগরের জামালখান লেনের বাসিন্দা শুভেচ্ছা ঘোষ তার স্কুলগামী সন্তানের জন্য নাশতা তৈরি করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০টার পর থেকে গ্যাস থাকছে না। কিন্তু আজ সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। নাশতা না খাইয়ে সন্তানকে কীভাবে স্কুলে পাঠাব? একবার সকালে গ্যাস গেলে বিকেল ৩টার আগে আর আসে না। আবার ৫টায় গিয়ে রাত ১২টার দিকে টিমটিম করে জ্বলে।’

গ্যাস-সংকটের কারণে পরিবারের খাওয়াদাওয়ার সময়সূচি পাল্টে যাওয়ার কথা জানান আসকার দিঘির পাড় এলাকার বাসিন্দা ইশরাত জাহান।

ভুক্তভোগীরা জানান রাত ১২টার আগে আমরা রান্না করতে পারি না। দুপুরের খাবার রেস্তোরাঁ থেকে কিনে আনতে হচ্ছে।’

আগ্রাবাদ, হালিশহর, পতেঙ্গা, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ, মুরাদপুর, বাকলিয়া, চকবাজার, বহদ্দারহাট, অক্সিজেন ও ষোলশহরসহ নগরীর অন্যান্য এলাকার বাসিন্দাদেরও একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব এলাকাতেও বহু মানুষকে বাইরে থেকে খাবার এনে খেতে হচ্ছে।

সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন চালকরা।