ঢাকা ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
  • ২৮ Time View

{"remix_data":[],"remix_entry_point":"challenges","source_tags":["local"],"origin":"unknown","total_draw_time":0,"total_draw_actions":0,"layers_used":0,"brushes_used":0,"photos_added":0,"total_editor_actions":{},"tools_used":{"border":3,"transform":1},"is_sticker":false,"edited_since_last_sticker_save":true,"containsFTESticker":false}

Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:–
বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশেষজ্ঞনির্ভর করার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন। তিনি মনে করেন, মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সেহলী পারভীন বলেন, “বর্তমানে কোনো মানবাধিকার সংস্থা বা সংগঠনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তদন্ত ও ইতিবাচক ছাড়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মানবাধিকার বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া একটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের সঙ্গে মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালার সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, তা নির্ণয় করা কতটা সম্ভব?”

তিনি বলেন, “যদি তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না থাকেন, তাহলে গঠনতন্ত্রে মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায়।”

সেহলী পারভীনের অভিযোগ, দেশে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের ব্যানার ব্যবহার করলেও তাদের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানবাধিকার আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার কোনো ব্যবসা নয়, কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ারও নয়। এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল সামাজিক অঙ্গীকার। তাই মানবাধিকার সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা।”

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার চাইলে মানবাধিকার আইনবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে পারে। এই কমিটি নিবন্ধনের আবেদনকারী সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সুপারিশ প্রদান করতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু নিবন্ধন প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিবন্ধিত সংগঠনগুলো বাস্তবে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তারা মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।”

সেহলী পারভীন আরও বলেন, “মানবাধিকারের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রবণতা রোধ করতে না পারলে প্রকৃত মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সময়ের দাবি।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাববে এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে, যেখানে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চাকারীরা উৎসাহিত হবে এবং মানবাধিকারের নামে অপতৎপরতার সুযোগ কমে আসবে।”

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, দেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনমুখী করতে নিবন্ধন, তদারকি এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আধুনিক ও বিশেষজ্ঞভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের

মানবাধিকার সংগঠনের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সংস্কারের দাবি সেহলী পারভীনের

Update Time : ১১:৩০:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:–
বাংলাদেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন ও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং বিশেষজ্ঞনির্ভর করার দাবি জানিয়েছেন জনপ্রিয় মানবাধিকার নেত্রী সেহলী পারভীন। তিনি মনে করেন, মানবাধিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রদানের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার পাশাপাশি মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা জরুরি।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে সেহলী পারভীন বলেন, “বর্তমানে কোনো মানবাধিকার সংস্থা বা সংগঠনের নিবন্ধনের ক্ষেত্রে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-এর তদন্ত ও ইতিবাচক ছাড়পত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, মানবাধিকার বিষয়ে দক্ষ ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া একটি সংগঠনের গঠনতন্ত্র, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের সঙ্গে মানবাধিকারের মৌলিক নীতিমালার সামঞ্জস্য কতটা রয়েছে, তা নির্ণয় করা কতটা সম্ভব?”

তিনি বলেন, “যদি তদন্ত ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ না থাকেন, তাহলে গঠনতন্ত্রে মানবাধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো ধারা বা উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের নাম ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার সুযোগ পায়।”

সেহলী পারভীনের অভিযোগ, দেশে কিছু সংগঠন মানবাধিকারের ব্যানার ব্যবহার করলেও তাদের কার্যক্রম অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব সংগঠনের কিছু কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল বার্তা ছড়িয়ে দেয় এবং মানবাধিকার আন্দোলনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে।

তিনি আরও বলেন, “মানবাধিকার কোনো ব্যবসা নয়, কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ারও নয়। এটি মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার, সমতা এবং মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষার একটি দায়িত্বশীল সামাজিক অঙ্গীকার। তাই মানবাধিকার সংগঠন পরিচালনার জন্য প্রয়োজন যোগ্যতা, জবাবদিহিতা ও নৈতিক দায়বদ্ধতা।”

নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, “সরকার চাইলে মানবাধিকার আইনবিদ, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও অভিজ্ঞ মানবাধিকার কর্মীদের সমন্বয়ে একটি বিশেষজ্ঞ পর্যালোচনা কমিটি গঠন করতে পারে। এই কমিটি নিবন্ধনের আবেদনকারী সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র, উদ্দেশ্য ও কার্যক্রম মূল্যায়ন করে সুপারিশ প্রদান করতে পারে।”

তিনি বলেন, “শুধু নিবন্ধন প্রদান করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। নিবন্ধিত সংগঠনগুলো বাস্তবে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তারা মানবাধিকারের নীতিমালা অনুসরণ করছে কি না, সে বিষয়েও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।”

সেহলী পারভীন আরও বলেন, “মানবাধিকারের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো বা ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের প্রবণতা রোধ করতে না পারলে প্রকৃত মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই নিবন্ধন ও তদারকি ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করা সময়ের দাবি।”

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নিবন্ধন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে ভাববে এবং এমন একটি কাঠামো তৈরি করবে, যেখানে প্রকৃত মানবাধিকার চর্চাকারীরা উৎসাহিত হবে এবং মানবাধিকারের নামে অপতৎপরতার সুযোগ কমে আসবে।”

মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, দেশে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনমুখী করতে নিবন্ধন, তদারকি এবং জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে আধুনিক ও বিশেষজ্ঞভিত্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এতে মানবাধিকার সুরক্ষা ও জনআস্থা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।