ঢাকা ০৬:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেঘনার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে, মনপুরায় জোয়ারে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি প্রায় ১০ হাজার মানুষ, তলিয়ে গেছে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৯ Time View
Print

মো. শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:–

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ৫ থেকে ৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-মনপুরা নৌপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ৬০ কলোনি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় ৬০টি পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। অনেককে নিজেদের ঘরের টিনের ছাদের ওপর আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বেড়িবাঁধবিহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসব এলাকায় ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানান কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিন তালুকদার।

এদিকে, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

৬০ কলোনির বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বেগম জানান, দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে তাদের বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জোয়ারে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন পানি বাড়বে, কখন কমবে—এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।

অন্যদিকে, রামনেওয়াজ ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা ও মমিন তালুকদার জানান, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, “মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবি

মেঘনার পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপরে, মনপুরায় জোয়ারে প্লাবিত নিম্নাঞ্চল, পানিবন্দি প্রায় ১০ হাজার মানুষ, তলিয়ে গেছে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট

Update Time : ০৩:০৯:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
Print

মো. শাকিল খান রাজু সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার:–

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ৫ থেকে ৬ ফুট জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। একই সঙ্গে ঢাকা-মনপুরা নৌপথের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন শত শত যাত্রী।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) দুপুর ২টার দিকে মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ১ নম্বর মনপুরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব পাশের ৬০ কলোনি জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছে। কোথাও কোথাও বুকসমান পানি প্রবাহিত হচ্ছে। প্রায় ৬০টি পরিবারের সদস্যরা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছেন। অনেককে নিজেদের ঘরের টিনের ছাদের ওপর আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

অন্যদিকে, বেড়িবাঁধবিহীন ৫ নম্বর কলাতলী ইউনিয়নের চরকলাতলী, কাজীরচর ও ঢালচর এলাকার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। এসব এলাকায় ৫ থেকে ৭ ফুট জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানান কলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আমিন তালুকদার।

এদিকে, রামনেওয়াজ লঞ্চঘাট জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের কোমরসমান পানি পেরিয়ে লঞ্চে ওঠানামা করতে হয়েছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন।

৬০ কলোনির বাসিন্দা ইয়াছিন, কামাল ও সখিনা বেগম জানান, দিনে ও রাতে দুই দফা জোয়ারের পানিতে তাদের বসতঘর প্লাবিত হচ্ছে। পরিবার-পরিজনকে নিয়ে টিনের চালের ওপর আশ্রয় নিতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের জোয়ারে চরম আতঙ্কে থাকতে হয়। কখন পানি বাড়বে, কখন কমবে—এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাদের।

অন্যদিকে, রামনেওয়াজ ঘাট এলাকার বাসিন্দা নাহিদ, মোস্তফা ও মমিন তালুকদার জানান, লঞ্চঘাটসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাফউদ্দৌলা বলেন, “মেঘনা নদীর পানি বিপদসীমার ১০০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বেড়িবাঁধের ভেতর ও বাইরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামনেওয়াজ এলাকার পুরোনো বেড়িবাঁধ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”