ঢাকা ০৩:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ টেন্ডার, প্রশাসনিক প্রভাব ও সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
  • ২৮ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি নির্মাণকাজে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর বদরুল আলম খানের প্রশাসনিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, অতীতেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বদলি, পদায়ন ও টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং বর্তমানেও সেই প্রভাব বজায় রেখেছেন।
দুদকে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায় বিনিয়োগসহ তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে তার বদলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য, সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদায়ন নিশ্চিত করেন।
এদিকে, বদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তার প্রথম স্ত্রী জেসমিন দাবি করেছেন, পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অন্যদিকে রোখসানা আক্তার মিম জানিয়েছেন, তারা বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মনপুরায় আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নতুন গতি,

গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ টেন্ডার, প্রশাসনিক প্রভাব ও সম্পদ নিয়ে অনুসন্ধানের দাবি

Update Time : ১১:০৭:০০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের বিরুদ্ধে সরকারি প্রকল্পের দরপত্রে প্রভাব বিস্তার, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, ঠিকাদারি সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করে একটি নির্দিষ্ট ঠিকাদার গোষ্ঠীকে সুবিধা দিয়ে আসছেন। তাদের অভিযোগ, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি নির্মাণকাজে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে পরিবর্তনের পর বদরুল আলম খানের প্রশাসনিক প্রভাব আরও বৃদ্ধি পায়। জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের পাশ কাটিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। তাদের দাবি, অতীতেও তিনি রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে বদলি, পদায়ন ও টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং বর্তমানেও সেই প্রভাব বজায় রেখেছেন।
দুদকে দেওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, ঢাকায় একাধিক প্লট ও ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়িতে বাংলো ও খামারবাড়ি, ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায় বিনিয়োগসহ তার ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদের উৎস তদন্ত করা প্রয়োজন। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব সম্পদের পরিমাণ তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এ ছাড়া গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাভার সার্কেল থেকে ঢাকা গণপূর্ত-১ সার্কেলে তার বদলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাদের ভাষ্য, সুপারিশপ্রাপ্ত অন্য কর্মকর্তাকে বাদ দিয়ে প্রভাব খাটিয়ে তিনি ওই পদায়ন নিশ্চিত করেন।
এদিকে, বদরুল আলম খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও অভিযোগ সামনে এসেছে। তার প্রথম স্ত্রী জেসমিন দাবি করেছেন, পারিবারিক দায়িত্ব পালনে অবহেলা এবং দ্বিতীয় বিয়ে সংক্রান্ত বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। অন্যদিকে রোখসানা আক্তার মিম জানিয়েছেন, তারা বৈধভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন এবং অভিযোগগুলো সঠিক নয়।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোহাম্মদ বদরুল আলম খানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা গণপূর্ত অধিদপ্তরের টেন্ডার কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং সম্পদ অর্জনের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।