ঢাকা ০৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৌলতপুরে সেতুর অভাবে হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস এমপির

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাগজোত ও শুকার ঘাটে দুটি ব্রিজের অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করতে হয় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে। গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের পারাপারে অনেক ভোগান্তি হয়। জরুরি অবস্থায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের দ্রুত একটি সেতু প্রয়োজন।” এক শিক্ষার্থী জানান, “এখানকার মানুষের জন্য কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থাই নেই। চিকিৎসার জন্য অনেক রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। তবুও সেই রাস্তার এই বেহাল দশা। এই দুর্দশার মাত্রা ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।” এক ভ্যানচালক বলেন, “মাটির রাস্তায় বৃষ্টি হলে কাদায় ডুবে যায় রাস্তা।
ভাগজোত ও শুকার ঘাটের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের জন্য খুবই উপকারী হয়।” আরেক বাসিন্দা জানান, “আমাদের চলাচলে খুব কষ্ট হয়, আমাদের একটি সেতু প্রয়োজন।” এক শিশু শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। একটা ব্রিজ হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় চাষীরা একটি সেতু নির্মাণের দাবিতে একাট্টা। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে এখানে একটি সেতুর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, “এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভাগজোত ও শুকারঘাটের মধ্যে সেতু না থাকাটা আমার উপজেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে আমি মনে করি। আমি সংসদে দুই দিন বিষয়টি উত্থাপন করেছি, এলজিইডি মন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটারও দিয়েছি। তিনি সেখানে সচিব মহোদয়কে মার্ক করেছেন।” দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে ভাগজোত ও শুকার ঘাটে দুটি ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগই পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দর্শনায় ওয়ালটনের সেবা সম্প্রসারণ: গ্রাহকদের জন্য বিশেষ কর্পোরেট সুবিধা

দৌলতপুরে সেতুর অভাবে হাজারো মানুষের চরম দুর্ভোগ প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস এমপির

Update Time : ১১:২৮:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের সংযোগস্থল ভাগজোত ও শুকার ঘাটে দুটি ব্রিজের অভাবে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পানি বেড়ে গেলে নৌকাই হয়ে ওঠে একমাত্র ভরসা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন পারাপার করতে হয় শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে। গতকাল রবিবার সরেজমিনে গিয়ে এই দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। স্থানীয় এক মোটরসাইকেল চালক বলেন, “রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের মানুষের পারাপারে অনেক ভোগান্তি হয়। জরুরি অবস্থায় খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। আমাদের দ্রুত একটি সেতু প্রয়োজন।” এক শিক্ষার্থী জানান, “এখানকার মানুষের জন্য কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থাই নেই। চিকিৎসার জন্য অনেক রাস্তা পাড়ি দিতে হয়। তবুও সেই রাস্তার এই বেহাল দশা। এই দুর্দশার মাত্রা ভুক্তভোগীরা ছাড়া কেউ বুঝতে পারবে না।” এক ভ্যানচালক বলেন, “মাটির রাস্তায় বৃষ্টি হলে কাদায় ডুবে যায় রাস্তা।
ভাগজোত ও শুকার ঘাটের মধ্যে একটি সেতু নির্মাণ করা হলে আমাদের জন্য খুবই উপকারী হয়।” আরেক বাসিন্দা জানান, “আমাদের চলাচলে খুব কষ্ট হয়, আমাদের একটি সেতু প্রয়োজন।” এক শিশু শিক্ষার্থী বলেন, “বৃষ্টি হলে আমরা স্কুলে যেতে পারি না। একটা ব্রিজ হলে আমাদের জন্য ভালো হয়।” স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজ না থাকায় শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবা পেতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। কৃষকদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতেও বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে অভিযোগ তাদের। স্থানীয় চাষীরা একটি সেতু নির্মাণের দাবিতে একাট্টা। তারা বলছেন, এই মুহূর্তে এখানে একটি সেতুর কোনো বিকল্প নেই। এদিকে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহম্মেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, “এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভাগজোত ও শুকারঘাটের মধ্যে সেতু না থাকাটা আমার উপজেলার সবচেয়ে বড় সমস্যা বলে আমি মনে করি। আমি সংসদে দুই দিন বিষয়টি উত্থাপন করেছি, এলজিইডি মন্ত্রী বরাবর একটি ডিও লেটারও দিয়েছি। তিনি সেখানে সচিব মহোদয়কে মার্ক করেছেন।” দ্রুত প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ব্রিজ নির্মাণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। দীর্ঘদিনের এই জনদুর্ভোগ নিরসনে ভাগজোত ও শুকার ঘাটে দুটি ব্রিজ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্যোগই পারে হাজারো মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে।