
এশিয়া পোস্টের সাংবাদিক জমশেদ নাজিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর রূপনগর থানাধীন দুয়ারীপাড়া মৌজার বিরোধপূর্ণ ওয়াকফ সম্পত্তি নিয়ে প্রকাশিত একটি অনলাইন সংবাদকে কেন্দ্র করে এশিয়া পোস্টের সাংবাদিক জমশেদ নাজিমের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের দাবিদার পক্ষ। তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের প্রকৃত বিষয়বস্তু উপেক্ষা করে একতরফা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা আদালতের নির্দেশনার ভুল ব্যাখ্যা তৈরি করতে পারে। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দেওয়ানি পিটিশন নং-১৫২১/২০২১-এর আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধপূর্ণ ওয়াকফ সম্পত্তির ক্ষেত্রে স্থিতাবস্থা (Status Quo) বজায় থাকবে। অর্থাৎ, কোনো পক্ষই জমিতে নতুন করে নির্মাণকাজ, দখল পরিবর্তন বা অন্য কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। তাদের অভিযোগ, আদালতের এই নির্দেশনা বহাল থাকা সত্ত্বেও একটি ডেভেলপার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বিভিন্ন সময় জমিতে কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে কিছু সংবাদকর্মীও প্রকৃত তথ্য, আদালতের আদেশ ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলে তারা দাবি করেন। অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এশিয়া পোস্টের প্রতিবেদনে পুরোনো একটি ছবি ব্যবহার করা হয় এবং এমন কিছু তথ্য উপস্থাপন করা হয়, যা তাদের মতে আদালতের আদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা আরও দাবি করেন, সংবাদ প্রকাশের আগে সাংবাদিক জমশেদ নাজিমকে মামলার নথি ও আদালতের নির্দেশনা সম্পর্কে অবহিত করা হলেও তা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়নি। অভিযোগকারী পক্ষের আরও দাবি, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়া এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে যাচাই করা সাংবাদিকতার মৌলিক নৈতিক দায়িত্ব। একতরফা বা যাচাইবিহীন সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলে তা পেশাগত দায়িত্বের পরিপন্থী। এলাকাবাসীর দাবি, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ, আইনুদ্দিন হায়দার ও ফয়জুন্নেসা ওয়াকফ এস্টেটের প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে, যদি কোনো ব্যক্তি বা গণমাধ্যম ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর বা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করে থাকে, তবে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সাংবাদিকতা একটি মহান ও দায়িত্বশীল পেশা। তাই কোনো বিরোধপূর্ণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই, আদালতের আদেশ পর্যালোচনা এবং সব পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিরপেক্ষ, তথ্যভিত্তিক ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা অটুট রাখতে পারে।
Reporter Name 


















