
মোঃ রফিকুল ইসলাম রতন সিনিয়র রিপোর্টার ময়মনসিংহ। সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আইনটি আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে। আইন প্রণয়নের আগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নিয়ে ব্যাপক জনপরামর্শ গ্রহণ করা হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য (Misinformation) ও অপপ্রচার (Disinformation) বিস্তারের প্রেক্ষাপটে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের বিষয়ে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আইনটি কীভাবে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য, অপপ্রচার ও অসত্য তথ্যের বিস্তার প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে সরকার ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করছে। তবে সরকারবিরোধী বক্তব্য বা সরকারের সমালোচনা বন্ধ করার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সরকারের সমালোচনা করা নাগরিকের বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতারই অংশ। তবে রাষ্ট্রবিরোধী বা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডকে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় মোকাবিলা করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইনে নারী ও শিশুর সাইবার নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার বুলিং, মানহানিকর প্রচার এবং নারীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের কারণে অনেকেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নতুন আইনে প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন আইন যেন কোনোভাবেই নাগরিকের অধিকার ও স্বাধীন মতপ্রকাশের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, একই সঙ্গে আইনের অপব্যবহারও যেন কেউ করতে না পারে সে বিষয়েও বিশেষ নজর দেওয়া হবে। আইন প্রণয়নের আগে সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত গ্রহণ করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, শুধু আইন করে অপতথ্য ও অপপ্রচার পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের মধ্যে সচেতনতা, নৈতিক শিক্ষা ও দায়িত্বশীল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ভিডিও ও রিলস তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি। এসব কনটেন্ট স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচারের পাশাপাশি জেলা তথ্য অফিস এবং সাংবাদিকদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো তথ্য দেখলেই তা যাচাই না করে শেয়ার করা থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। একটি ভুল বা মিথ্যা তথ্য মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়ে সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। তাই তথ্য যাচাইয়ের পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করাও জরুরি। বাংলাদেশকে একটি সুন্দর, উন্নত ও দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী। ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মোঃ সাইফুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মীর আকরাম উদ্দীন আহম্মদ এবং মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ খান মোঃ সাজ্জাদ কবীর। সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য, গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে এসব তথ্যের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিজীবনে নেতিবাচক প্রভাব এবং তা প্রতিরোধে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে করণীয় নিয়েও আলোচনা করা হয়। আলোচনা সভা শেষে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ময়মনসিংহ জেলায় সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় সভায় সরকারি সেবার মানোন্নয়ন, আন্তঃদপ্তর সমন্বয় জোরদার, জনগণের কাছে দ্রুত ও সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া এবং সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড যথাযথভাবে জনগণের সামনে তুলে ধরার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রতিমন্ত্রী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে হলে সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে। জনগণের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করে তা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সঠিক তথ্য জানাতে হবে। মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের অবাধ ও সঠিক প্রবাহ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দায়িত্বশীল গণমাধ্যম চর্চার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও তথ্যসমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
Reporter Name 


















