
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু ভোলার মনপুরায় সাংবাদিকতার আড়ালে নারী দিয়ে ‘হানিট্র্যাপ’ এ ফাঁসিয়ে পুরুষদের ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাংবাদিক মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এক ব্যবসায়ী। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মাকসুদ আলম। লিখিত বক্তব্যে মাকসুদ আলম দাবি করেন, ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি ইটভাটার বিরুদ্ধে একটি সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে সাংবাদিক মেহেদী হাসানের সঙ্গে তার মনোমালিন্য হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে সম্পর্ক স্বাভাবিক হলেও তার প্রতি মেহেদী হাসানের ক্ষোভ থেকে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাকসুদ আলমের ভাষ্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে সাংবাদিক মেহেদী হাসানের কাছ থেকে তিনি কয়েক দফা ইট কেনেন। একপর্যায়ে ইটের মান খারাপ হয়েছে জানিয়ে সেগুলো দেখার জন্য তাকে হাজিরহাটে যেতে বলা হয়। একই সঙ্গে আরও ইট প্রয়োজন বলেও তাকে জানানো হয়। অভিযোগে তিনি বলেন, হাজিরহাটে যাওয়ার পর মেহেদী হাসান তাকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে ইটের গুণগত মান দেখার কথা বলে তাকে আপ্যায়ন করা হয়। পরে একজন অপরিচিত নারীকে তার পাশে বসিয়ে অন্তরঙ্গ হওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে কয়েকজন অচেনা যুবক এসে তাকে জোরপূর্বক বীবস্ত্র করার চেষ্টা করে এবং ওই নারীর সঙ্গে ভিডিও ধারণ করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। মাকসুদ আলমের দাবি, ধারণ করা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তার কাছে থাকা ব্যবসার কালেকশনের ২ লাখ টাকা নিয়ে নেওয়া হয়। এছাড়া বিকাশের মাধ্যমে সাংবাদিক মেহেদী হাসানের চাচাতো ভাই আমির হাওলাদারের এজেন্ট নম্বরে আরও ৫০ হাজার টাকা পাঠাতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন সময় ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার কাছে টাকা দাবি করা হচ্ছে। এতে তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। সংবাদ সম্মেলনে মাকসুদ আলম অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ধারণ করা ভিডিও অপসারণের দাবি জানান।
Reporter Name 



















