
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাদুরা-নলুয়াবাগী এলাকায় পৈতৃক ও ক্রয়সূত্রে প্রাপ্ত জমি দখলের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি এবং মধ্যস্থতা করতে গিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। প্রতিপক্ষ হারুন হাওলাদার চক্রের বিরুদ্ধে এই বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বাদুরা মৌজার জে.এল. নম্বর-১১৬, মোট ১২ একর জমি দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ি, পুকুর, ফলজ বাগান ও চাষাবাদের মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আসছেন প্রফেসর মোঃ গোলাম গাউস (৫৮) ও তার ভাই হাবিবুর রহমান ভান্ডার মাস্টার (৫৬). তবে উক্ত সম্পত্তিসহ মাত্র ৫ একর জমির ভুয়া দাবি তুলে সম্পূর্ণ ১২ একর জমির স্বাভাবিক ভোগদখল ও চাষাবাদে প্রতিনিয়ত বাধা সৃষ্টি করে আসছে স্থানীয় মোঃ হারুন হাওলাদার গং। পরবর্তীতে হারুন হাওলাদার নিজেই বাদী হয়ে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৪/১৪৫ ধারার একটি মামলা দায়ের করেন যাহার নম্বর: এমপি ১৪৯/২৬. উক্ত সম্পত্তি নিয়ে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এড়াতে বিজ্ঞ আদালত গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জকে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পুলিশ উভয় পক্ষকে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় জমিতে যাতায়াত ও চাষাবাদ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়।ভুক্তভোগী গোলাম গাউস আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে জমিতে প্রবেশ বন্ধ রাখলেও সেই সুযোগকে কাজে লাগায় অভিযুক্ত হারুন হাওলাদার চক্র। আদালতের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা রামদা, ছেনা ও ছোড়াসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। এমনকি গোলাম গাউসের বসতবাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করে গাছ থেকে জোরপূর্বক ফলমূল ও পুকুর থেকে মাছ লুট করে নিয়ে যায়। গত শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের দিকে গোলাম গাউস বাধা দিতে গেলে হারুন, মেহেদী ও সোহেলসহ ১০-১২ জনের একটি সন্ত্রাসী দল তাকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে ধাওয়া করে। জীবন রক্ষার্থে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ শহিদুল প্যাদাকে খবর দেন। ইউপি সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। পরবর্তীতে ইউপি সদস্যের জরুরি ফোন পেয়ে গলাচিপা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে ও ভুক্তভোগীদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। এলাকাবাসীর মতে, প্রফেসর গোলাম গাউস গং যুগ যুগ ধরে এই সম্পত্তি ভোগদখল করে আসলেও সম্প্রতি মাত্র ৫ একরের অসংগত দাবি তুলে পুরো ১২ একর জমির ভোগদখল আটকে দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করছে হারুন ও তার সঙ্গীরা। কথায় কথায় ধারালো অস্ত্র নিয়ে নারীদের সাথে নিয়ে ভুক্তভোগীদের ওপর চড়াও হওয়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবার আইনানুগ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিজেদের পৈতৃক সম্পত্তি শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখলের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বিজ্ঞ আদালতের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ইউপি সদস্য মো. শহিদুল প্যাদার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমি অত্র ৯ নম্বর ওয়ার্ডের একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে গোলাম গাউস আমাকে সংবাদ দিলে আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনার চেষ্টা করি। কিন্তু হারুন তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমাকেও অবরুদ্ধ করে রাখে। আমি কোন উপায় না পেয়ে গলাচিপা থানায় জানালে থানা থেকে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আমাদের অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে হারুন বাহিনী পুলিশের টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। উক্ত ঘটনা সম্পর্কে অভিযুক্ত হারুন হাওলাদারের বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে নিজেকে আত্মগোপন করে রাখেন। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, “ঘটনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর থানা থেকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় এবং পুলিশ অবরুদ্ধ ইউপি সদস্য ও গোলাম গাউসকে উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে; দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”
Reporter Name 


















