ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় ভূমি অপরাধ আইনে মামলা গ্রহণে জটিলতা: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
  • ১০ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় অবৈধভাবে দখলকৃত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার আইনগত সুযোগ থাকলেও সাতক্ষীরায় এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম অদ্যাবধি শুরু না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে চীফ গিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) দেবহাটা উপজেলার আলমগীর নামে একজন নালিশকারীকে তার দখলীয় জমি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদের অভিযোগে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করতে গিয়ে তিনি তা দাখিল করতে পারেননি বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নথিতে দেখা যায়, ২৩/০৮/২০২৬ তারিখের আদেশে উপস্থিত ছিলেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা। ওই আদেশে নালিশকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে তার স্বত্ব দখলীয় জমিতে ঘেরা বেড়া ও প্রাচির দিয়ে বেদখল করেছে উল্লেখ করে তাকে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়। আইনের ৮ ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত করা হলে তিনি দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন বা মামলা করতে পারবেন। উপধারা (২) অনুযায়ী, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হলে পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে দখল পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন। এছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এর ধারা ৮-এর অধীনে অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে। ফলে আইন ও বিধিমালায় যেখানে দখলচ্যুত মানুষের দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট আদালতে এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম কার্যকর না থাকায় আইনটির সুফল থেকে বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে উনারা কাজ করছেন। দ্রুতই মামলা নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পেছনে ছুটতে হয়। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারা অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ আইনি প্রতিকার সৃষ্টি করেছে। তাই সাতক্ষীরায় এ ধারার মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন। বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ধারা ৮-এর আবেদন বা মামলা গ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ এবং জনসাধারণকে তা অবহিত করবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গলাচিপায় ২৩ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার

সাতক্ষীরায় ভূমি অপরাধ আইনে মামলা গ্রহণে জটিলতা: দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস জেলা প্রশাসনের

Update Time : ১০:৫৪:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় অবৈধভাবে দখলকৃত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করার আইনগত সুযোগ থাকলেও সাতক্ষীরায় এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম অদ্যাবধি শুরু না হওয়ায় বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিস থেকে চীফ গিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান (যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ) দেবহাটা উপজেলার আলমগীর নামে একজন নালিশকারীকে তার দখলীয় জমি থেকে অবৈধভাবে উচ্ছেদের অভিযোগে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা করার পরামর্শ দেন। কিন্তু পরামর্শ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করতে গিয়ে তিনি তা দাখিল করতে পারেননি বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের নথিতে দেখা যায়, ২৩/০৮/২০২৬ তারিখের আদেশে উপস্থিত ছিলেন চিফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ, সাতক্ষীরা। ওই আদেশে নালিশকারীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিপক্ষ অবৈধভাবে তার স্বত্ব দখলীয় জমিতে ঘেরা বেড়া ও প্রাচির দিয়ে বেদখল করেছে উল্লেখ করে তাকে ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারার বিধান অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট মামলা দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয় এবং আবেদনটি নিষ্পত্তি করা হয়। আইনের ৮ ধারার উপধারা (১)-এ বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তিকে উপযুক্ত আদালত বা কর্তৃপক্ষের আদেশ ছাড়া তার দখলীয় ভূমি থেকে উচ্ছেদ বা দখলচ্যুত করা হলে তিনি দখল পুনরুদ্ধারের জন্য সংশ্লিষ্ট অধিক্ষেত্রের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন বা মামলা করতে পারবেন। উপধারা (২) অনুযায়ী, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্তুষ্ট হলে পূর্ব-দখলীয় ভূমিতে দখল পুনর্বহালের জন্য প্রয়োজনীয় আদেশ দিতে পারেন। এছাড়া ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা, ২০২৪-এর ধারা ৮-এর অধীনে অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের আবেদন করার পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিধিমালা অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় দলিলাদি সংযুক্ত করে দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আবেদন করার বিধান রয়েছে। ফলে আইন ও বিধিমালায় যেখানে দখলচ্যুত মানুষের দ্রুত প্রতিকার পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে, সেখানে সাতক্ষীরায় সংশ্লিষ্ট আদালতে এ ধারায় মামলা গ্রহণের কার্যক্রম কার্যকর না থাকায় আইনটির সুফল থেকে বিচারপ্রার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন কি না—এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রিপন বিশ্বাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি নিয়ে উনারা কাজ করছেন। দ্রুতই মামলা নেওয়ার ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জমি দখলকে কেন্দ্র করে বিরোধের কারণে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘদিন দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলার পেছনে ছুটতে হয়। ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৮ ধারা অবৈধভাবে দখলচ্যুত ব্যক্তির দখল পুনরুদ্ধারের জন্য একটি বিশেষ আইনি প্রতিকার সৃষ্টি করেছে। তাই সাতক্ষীরায় এ ধারার মামলা গ্রহণ ও নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা দ্রুত চালু করা হলে প্রকৃত ভুক্তভোগীরা উপকৃত হবেন। বিচারপ্রার্থী জনগণের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে ধারা ৮-এর আবেদন বা মামলা গ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও সংশ্লিষ্ট আদালতের কার্যক্রম স্পষ্টভাবে নির্ধারণ এবং জনসাধারণকে তা অবহিত করবেন—এমন প্রত্যাশা স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের।