
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান : সীমান্তপথে ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার মধ্যেই লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক (আইসি) সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে কথিত ‘মাসোয়ারা’ নিয়ে তাদের সহযোগিতা করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কথিত মাসোয়ারা চুক্তির কারণে রাতের আঁধারে নৌপথে অবাধে ভারতীয় বিভিন্ন চোরাচালানের পণ্য পারাপার হচ্ছে। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথিত সমঝোতার মাধ্যমে লাখ লাখ টাকার পণ্য নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে যাচ্ছে। তবে সম্প্রতি লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একটি টহল দল আইসিকে অবহিত না করে অভিযান চালিয়ে একটি বড় চালান আটক করার পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে জামালগঞ্জ থানাধীন সুরমা নদীতে ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে নৌ-পুলিশের একটি টহল দল। এ সময় সুরমা নদীর পূর্ব পাড় এলাকায় একটি স্পিডবোট ধাওয়া করে ৩৯৮ পিস ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা শাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত আনুমানিক ৩ লাখ টাকা মূল্যের একটি স্পিডবোটও জব্দ করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জয়নাল মিয়া ও মোজাহিদ মিয়া নামের দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৪-এর আওতায় জামালগঞ্জ থানায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, নৌপথে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে একটি নির্দিষ্ট মহলের সঙ্গে লালপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির আইসি সজল কুমার কানুর কথিত ‘মাসোয়ারা চুক্তি’ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এই কথিত সমঝোতার কারণে চোরাকারবারিরা রাতের বেলায় নৌপথ ব্যবহার করে ভারতীয় পণ্য পারাপার করে আসছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য, ২৬ আগস্টের অভিযানটি আইসিকে অবহিত না করেই পরিচালিত হওয়ায় চোরাচালান চক্রের একটি বড় চালান আটক হয়। এ ঘটনায় ফাঁড়ির অভ্যন্তরে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রের দাবি। এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত ও নৌপথে চোরাচালান প্রতিরোধের দায়িত্বে থাকা কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চোরাকারবারিদের কাছ থেকে মাসোয়ারা নেওয়ার মতো অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্পদ ও আর্থিক লেনদেন যাচাই এবং চোরাচালান চক্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যোগাযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন। তবে আইসি সজল কুমার কানুর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, চোরাচালান বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভ্যন্তরে কারও বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা দ্রুত তদন্ত করা হবে এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Reporter Name 


















