ঢাকা ০১:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিচার দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ৫৫ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার ধর্ষণ, গর্ভপাত এবং প্রতারণার পর প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ​অভিযুক্ত যুবকের নাম মনিরুল ইসলাম; তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০) একই উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের আনারুল ইসলামের কন্যা। ​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে স্মৃতির সাথে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে স্মৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড ও পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। ​স্থানীয়দের তথ্যমতে, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। এরপর সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে প্রতারક মনিরুল গোপনে দেশের বাইরে চলে যান। ​পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনিরুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তিনি কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাকে আইনি ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন। ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার দ্রুত স্থানীয় ওয়ার্ডের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তের দেশে ফেরার পর সালিশের মাধ্যমে সঠিক বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে, ওই নারী আশ্বাসে বাড়ি ফিরে যান। ​এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারক মনিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত”

সাতক্ষীরায় বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ বিচার দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে তরুণীর অবস্থান

Update Time : ১০:১৩:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘ দুই বছর প্রেমের সম্পর্কের নামে একাধিকবার ধর্ষণ, গর্ভপাত এবং প্রতারণার পর প্রেমিকের বিদেশ পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত যুবকের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন এক তরুণী। ​অভিযুক্ত যুবকের নাম মনিরুল ইসলাম; তিনি কলারোয়া উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি (২০) একই উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের আনারুল ইসলামের কন্যা। ​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে স্মৃতির সাথে মনিরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এই সুবাদে বিয়ের মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে মনিরুল তার নিজ বাড়িসহ সাতক্ষীরার বিভিন্ন পার্কে ও গোপন স্থানে নিয়ে স্মৃতির ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে স্মৃতি গর্ভবতী হয়ে পড়লে গত ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার স্বপ্না ক্লিনিক অ্যান্ড আকসা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসাউন্ড ও পরীক্ষার মাধ্যমে গর্ভাবস্থার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়। ​স্থানীয়দের তথ্যমতে, গর্ভাবস্থার বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী ডেকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ওই তরুণীকে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে কৌশলে গর্ভপাত (অ্যাবশন) করানো হয়। এরপর সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সম্পর্ক অস্বীকার করে প্রতারક মনিরুল গোপনে দেশের বাইরে চলে যান। ​পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মনিরুল বিদেশ চলে যাওয়ার পর অসহায় ওই নারী কোনো উপায় না পেয়ে বিচারের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকেন। একপর্যায়ে স্থানীয়দের পরামর্শে শুক্রবার (২৮ আগস্ট ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের অধিকার ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তিনি কেড়াগাছি গ্রামে মনিরুল ইসলামের বাড়িতে উপস্থিত হন। সেখানে তিনি স্পষ্ট জানান, তাকে আইনি ও পারিবারিক মর্যাদা না দিলে তিনি ওই বাড়িতেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হবেন। ​পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মনিরুলের পরিবার দ্রুত স্থানীয় ওয়ার্ডের এক সাবেক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তের দেশে ফেরার পর সালিশের মাধ্যমে সঠিক বিচার করা হবে মর্মে আশ্বস্ত করলে, ওই নারী আশ্বাসে বাড়ি ফিরে যান। ​এই ন্যক্কারজনক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী রেক্সোনা আক্তার স্মৃতি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রতারক মনিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।