
নিজস্ব প্রতিনিধি। জয়নাল আবেদীন রাজু বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াঝুড়ি এলাকায় মো. শিপন হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিরপরাধ ব্যক্তিদের মিথ্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও পুনঃতদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও অভিযুক্তদের স্বজনরা। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় আমড়াঝুড়ি রোডপাড়া বাজারে কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ ও সচেতন যুবসমাজের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, শিপন হাওলাদার হত্যা মামলায় প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়—এমন কয়েকজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। তারা দাবি করেন, মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা জরুরি। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আমড়াঝুড়ি গ্রামের মো. সোহরাব হাওলাদারের ছেলে মো. শিপন হাওলাদার (২৫) ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে নিখোঁজ হন। পরে সোহরাব হালদারের বাড়ির উত্তর পাশে একটি খালের পাড় থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে মানববন্ধনে বক্তারা জানান। এ ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে স্থানীয় ৯ জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। মামলায় অভিযুক্তরা হলেন—মো. কামাল হোসেন, মো. সোহেল, মো. জাহাঙ্গীর ওরফে কালা জাহাঙ্গীর, সুমন সরদার, মো. জাফর, আব্দুল জব্বার, আব্দুস সোবাহান, মো. রাসেল ও মো. রাব্বি। তারা সবাই বরগুনা সদর উপজেলার কেওড়াবুনিয়া ইউনিয়নের আমড়াঝুড়ি গ্রামের বাসিন্দা। মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন অভিযুক্তদের পরিবারের সদস্য রোজিনা, আজমি, পিয়ারা ও আব্দুল জলিল। এছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য গোলাম কবিরসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও বক্তব্য দেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি পক্ষের প্রভাব ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নিরপরাধ ব্যক্তিদের হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে। তারা আরও বলেন, নিহত শিপনের ব্যক্তিগত জীবন ও পূর্ববর্তী বিভিন্ন বিষয়ও তদন্তের আওতায় এনে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা প্রয়োজন। মানববন্ধনে প্রদর্শিত ব্যানারে লেখা ছিল— “মো. শিপন হাওলাদারের নৃশংস ও বর্বরচিত হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং মূল হোতাদের—তা সে পরিবারের ভেতরের বা বাইরের যে-ই হোক—আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” সমাবেশ থেকে বক্তারা প্রশাসনের কাছে দাবি জানান, মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে। পাশাপাশি তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যাবে না, তাদের হয়রানি থেকে মুক্তি দেওয়ারও দাবি জানান তারা। বক্তারা বলেন, মামলার বাদীপক্ষের অভিযোগ ও এজাহারে উল্লিখিত আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত তা নির্ধারণ করতে হবে। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার না হন এবং প্রকৃত অপরাধীরা যেন আইনের আওতার বাইরে থাকতে না পারেন—এটাই তাদের প্রধান দাবি। মানববন্ধন থেকে প্রয়োজনে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) বা অন্য কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত সংস্থার মাধ্যমে ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্তের দাবিও জানানো হয়। স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে শিপন হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হয়ে প্রকৃত অপরাধীরা আইনের আওতায় আসবে।
Reporter Name 


















