
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ২নং গোলখালী ইউনিয়ন পরিষদের ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকনের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। ওই প্যানেল চেয়ারম্যানকে পরিবর্তন অথবা একজন প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের সকল সদস্যবৃন্দ। জেলা প্রশাসক বরাবর পেশ করা অভিযোগে বলা হয়, ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান আবু সাঈদ আকন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নানা ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতায় লিপ্ত রয়েছেন। এতে পরিষদের স্বাভাবিক প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অভিযোগে উপস্থাপিত মূল বিষয় সমূহ: • প্রকল্পে ৫০% কমিশন ও ঘুষ দাবি: জেলা পরিষদের অর্থায়নে ইউনিয়নের স্থানীয় মসজিদ, মন্দির সংস্কার ও নলকূপ বরাদ্দের কথা বলে আবেদনকারীদের কাছ থেকে সরাসরি ৫০% কমিশন ও মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। • ট্যাক্স আত্মসাৎ: ভয়ভীতি দেখিয়ে সাধারণ জনগণের কাছ থেকে আদায় করা ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্স সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীতে চাঁদাবাজি: দুস্থ ও অসচ্ছল পরিবারের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি, ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা ও বিধবা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে অসহায় মানুষের কাছ থেকে বেআইনিভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। • একক সিদ্ধান্তে প্রকল্প গ্রহণ: ইউপি সদস্যদের কোনো আনুষ্ঠানিক সভা বা মিটিং না ডেকেই নিজের একক সিদ্ধান্তে ও মনগড়াভাবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও টিআর-কাবিখা তহবিল গ্রহণ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। • কাজের চুক্তি নিয়ে অর্থ দাবি: বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে স্থানীয় ঠিকাদার ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে বিপুল অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগও রয়েছে। পত্রটিতে আরও উল্লেখ করা হয়, আবু সাঈদ আকনের এসব অপকর্মের কারণে ইউনিয়ন পরিষদের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয়েছে এবং সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পরিষদ সচল রাখতে ১নং প্যানেল চেয়ারম্যান পরিবর্তন বা নতুন প্রশাসক নিয়োগের দাবি জানান ইউপি সদস্যবৃন্দ।
Reporter Name 



















