ঢাকা ১১:৫৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অভাবের তাড়নায় ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২২ Time View
Print

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :– মাত্র ৫০০ টাকা। এই সামান্য অর্থের অভাবে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে বুকে আগলে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করতে হয়েছে তাকে। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা আর কী হতে পারে—সন্তানদের মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ দিতে না পেরে নিজের চুল বিক্রি করে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুনের জীবন যেন দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি। দুই সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিনই তাকে লড়তে হচ্ছে খাবার, বাসস্থান ও নিরাপত্তার জন্য। মাথার ওপর নেই টিনের ছাউনি, চারপাশে নেই কোনো বেড়া। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঁশের তৈরি একটি অসম্পূর্ণ কাঠামোর নিচেই সন্তানদের নিয়ে দিন-রাত কাটছে তার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন একসময় দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু অভাবের সংসারে নিয়মিত ঘরভাড়া পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া বকেয়া থাকায় সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও হারাতে হয় তাকে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে বাধ্য হয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে সেটি পূর্ণাঙ্গ ঘরে রূপ নেয়নি। টিন কেনার সামর্থ্য নেই, বেড়া দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। ফলে খোলা কাঠামোর নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, “মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি, তার মাথায় চুল নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করার জন্য সে নিজের চুল বিক্রি করেছে। কথাটি শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। একজন মাকে মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া জোগাড় করতে নিজের চুল বিক্রি করতে হয়েছে—এটা ভাবতেই বুকটা ভার হয়ে আসে।”

রহিম শেখ বলেন, “রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। থাকার মতো একটি ঘর নেই, খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক এবং তার জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করুক।”

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও চারপাশে বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের সচ্ছল ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে রেহানা ও তার দুই সন্তান অন্তত নিরাপদে থাকতে পারবে।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘরের কাঠামো। সেই কাঠামোর নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। বৃষ্টি এলে ভিজতে হয়, রোদ উঠলে পুড়তে হয়। রাত নামলে সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় কাটে সময়। তবুও এই অসম্পূর্ণ কাঠামোটিকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

রেহানার জীবনে অভাব যেন শেষ না হওয়া এক গল্প। কখনো সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তা, কখনো মাথার ওপর একটি ছাদের আকুতি, আবার কখনো সামান্য ভাড়া পরিশোধের জন্য নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও বিসর্জন দিতে হচ্ছে তাকে। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টকে বারবার চাপা দিতে হচ্ছে এই মাকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। ঘরভাড়া দেওয়ার টাকা না থাকায় নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। সন্তানদের নিয়ে এভাবে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি চাই না, আমার সন্তানরা এভাবে কষ্টের মধ্যে বড় হোক। সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমাদের জন্য একটু নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করে দিন।”

রেহানার এই কান্না শুধু একজন অসহায় মায়ের কান্না নয়; এটি দুই সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এক মায়ের আকুতি। যে মা মাত্র ৫০০ টাকা জোগাড় করতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হন, তার কাছে একটি ছোট্ট ঘরই হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

এখন প্রশ্ন—রেহানার পাশে দাঁড়াবে কে?

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসন কর্মসূচি থাকলেও প্রয়োজনের সময়ে সেই সহায়তা রেহানার পরিবারের কাছে পৌঁছেছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে রেহানা ও তার দুই সন্তানের পাশে দাঁড়ায়।

এলাকাবাসী চান, রেহানার দুই সন্তানের মাথার ওপর দ্রুত একটি নিরাপদ ছাদ তৈরি হোক। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

একটি ঘর হয়তো সরকারের কাছে খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু রেহানার কাছে সেটিই একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। যে মা সন্তানদের জন্য মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া জোগাড় করতে নিজের চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, তার আর্তনাদ যেন আর রেললাইনের পাশে হারিয়ে না যায়।

সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও মানবিক হৃদয়ের অধিকারীদের প্রতিও এলাকাবাসীর আকুল আহ্বান—রেহানার কান্না যেন আর উপেক্ষিত না থাকে। তার দুই সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ঘর, দুবেলা খাবার এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ করে দিতে সবাই যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন।

রেহানার প্রয়োজন বড় কিছু নয়—প্রয়োজন শুধু একটি নিরাপদ ঘর। সেই ঘরের চারটি দেয়ালের ভেতরেই হয়তো তার দুই সন্তানের শৈশবটা আবার একটু স্বপ্ন দেখতে শিখবে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় লেবার সরদারের কাছে চাঁদা দাবি, হামলায় আহত ৫

অভাবের তাড়নায় ঘর ভাড়া পরিশোধে ৫০০ টাকায় মাথার চুল বিক্রি, ২ সন্তান নিয়ে রেললাইনে রেহানা।

Update Time : ১০:০৫:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
Print

 

নিজস্ব প্রতিবেদক :– মাত্র ৫০০ টাকা। এই সামান্য অর্থের অভাবে মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও হারিয়েছেন রেহানা খাতুন। দুই সন্তানকে বুকে আগলে এখন তার ঠিকানা খুলনা-মোংলা রেললাইনের পাশের খোলা জায়গা। ঘরের বকেয়া ভাড়া পরিশোধ করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মাথার চুল বিক্রি করে সেই টাকা জোগাড় করতে হয়েছে তাকে। একজন মায়ের কাছে এর চেয়ে বেদনাদায়ক বাস্তবতা আর কী হতে পারে—সন্তানদের মাথার ওপর একটি নিরাপদ ছাদ দিতে না পেরে নিজের চুল বিক্রি করে ভাড়া পরিশোধ করতে হয়েছে তাকে।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের রেহানা খাতুনের জীবন যেন দারিদ্র্যের নির্মম বাস্তবতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি। দুই সন্তানকে নিয়ে প্রতিদিনই তাকে লড়তে হচ্ছে খাবার, বাসস্থান ও নিরাপত্তার জন্য। মাথার ওপর নেই টিনের ছাউনি, চারপাশে নেই কোনো বেড়া। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বাঁশের তৈরি একটি অসম্পূর্ণ কাঠামোর নিচেই সন্তানদের নিয়ে দিন-রাত কাটছে তার।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রেহানা খাতুন একসময় দুই সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া করা ঝুপড়ি ঘরে বসবাস করতেন। কিন্তু অভাবের সংসারে নিয়মিত ঘরভাড়া পরিশোধ করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছিল না। একপর্যায়ে মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া বকেয়া থাকায় সেই সামান্য আশ্রয়টুকুও হারাতে হয় তাকে। কোথাও যাওয়ার জায়গা না থাকায় দুই সন্তানকে নিয়ে বাধ্য হয়ে রেললাইনের পাশের সরকারি জমিতে আশ্রয় নেন তিনি।

রেহানার অসহায়ত্ব দেখে স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। তাদের উদ্যোগে খুলনা-মোংলা রেলব্রিজের পাশে বাঁশের খুঁটি দিয়ে একটি ঘরের কাঠামো তৈরি করে দেওয়া হয়। কিন্তু কয়েক মাস পেরিয়ে গেলেও অর্থের অভাবে সেটি পূর্ণাঙ্গ ঘরে রূপ নেয়নি। টিন কেনার সামর্থ্য নেই, বেড়া দেওয়ার সামর্থ্যও নেই। ফলে খোলা কাঠামোর নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে দিন কাটছে রেহানার।

স্থানীয় বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম বলেন, “মাথা গোঁজার জায়গা না থাকায় রেহানা একসময় পাশের একটি বাড়িতে অস্থায়ীভাবে থাকতেন। একদিন দেখি, তার মাথায় চুল নেই। বিষয়টি জানতে চাইলে কান্নাকাটি করে জানায়, ঘরের ৫০০ টাকা ভাড়া পরিশোধ করার জন্য সে নিজের চুল বিক্রি করেছে। কথাটি শুনে খুব কষ্ট পেয়েছি। একজন মাকে মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া জোগাড় করতে নিজের চুল বিক্রি করতে হয়েছে—এটা ভাবতেই বুকটা ভার হয়ে আসে।”

রহিম শেখ বলেন, “রেহানার অবস্থা খুবই করুণ। দুই সন্তানকে নিয়ে সে অনেক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। থাকার মতো একটি ঘর নেই, খাবারেরও নিশ্চয়তা নেই। আমরা চাই, সরকার দ্রুত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখুক এবং তার জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করুক।”

মহিদুল ইসলাম নামে আরেক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “রেহানার জন্য বাঁশের কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। এখন শুধু টিন ও চারপাশে বেড়ার ব্যবস্থা করতে পারলেই একটি ঘর দাঁড় করানো সম্ভব। সরকারি সহায়তা কিংবা সমাজের সচ্ছল ও মানবিক মানুষরা এগিয়ে এলে রেহানা ও তার দুই সন্তান অন্তত নিরাপদে থাকতে পারবে।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সন্তোষপুর গ্রামের প্রবেশমুখে রেললাইনের পাশে দাঁড়িয়ে আছে বাঁশের তৈরি একটি অসম্পূর্ণ ঘরের কাঠামো। সেই কাঠামোর নিচেই দুই সন্তানকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের স্বপ্ন দেখছেন রেহানা। কিন্তু টিন ও বেড়ার অভাবে ঘরটি এখনো বসবাসের উপযোগী হয়নি। বৃষ্টি এলে ভিজতে হয়, রোদ উঠলে পুড়তে হয়। রাত নামলে সন্তানদের নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় কাটে সময়। তবুও এই অসম্পূর্ণ কাঠামোটিকেই আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

রেহানার জীবনে অভাব যেন শেষ না হওয়া এক গল্প। কখনো সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চিন্তা, কখনো মাথার ওপর একটি ছাদের আকুতি, আবার কখনো সামান্য ভাড়া পরিশোধের জন্য নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসটুকুও বিসর্জন দিতে হচ্ছে তাকে। দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে নিজের কষ্টকে বারবার চাপা দিতে হচ্ছে এই মাকে।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে রেহানা খাতুন বলেন, “দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব কষ্ট সহ্য করি। মাথা গোঁজার ঠাঁই তো নেই-ই, খাওয়ারও খুব কষ্ট। ঘরভাড়া দেওয়ার টাকা না থাকায় নিরুপায় হয়ে চুল বিক্রি করতে হয়েছিল। সন্তানদের নিয়ে এভাবে থাকতে আমার খুব কষ্ট হয়। আমি চাই না, আমার সন্তানরা এভাবে কষ্টের মধ্যে বড় হোক। সরকারের কাছে আমার একটাই অনুরোধ—আমাদের জন্য একটু নিরাপদ থাকার ব্যবস্থা করে দিন।”

রেহানার এই কান্না শুধু একজন অসহায় মায়ের কান্না নয়; এটি দুই সন্তানের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য এক মায়ের আকুতি। যে মা মাত্র ৫০০ টাকা জোগাড় করতে নিজের মাথার চুল বিক্রি করতে বাধ্য হন, তার কাছে একটি ছোট্ট ঘরই হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সবচেয়ে বড় স্বস্তি।

এখন প্রশ্ন—রেহানার পাশে দাঁড়াবে কে?

সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও আবাসন কর্মসূচি থাকলেও প্রয়োজনের সময়ে সেই সহায়তা রেহানার পরিবারের কাছে পৌঁছেছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসন যেন বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করে রেহানা ও তার দুই সন্তানের পাশে দাঁড়ায়।

এলাকাবাসী চান, রেহানার দুই সন্তানের মাথার ওপর দ্রুত একটি নিরাপদ ছাদ তৈরি হোক। সরকারি আবাসন প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি স্থায়ী ঘর বরাদ্দের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সামাজিক নিরাপত্তা সহায়তা, খাদ্য সহায়তা এবং সন্তানদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।

একটি ঘর হয়তো সরকারের কাছে খুব বড় কিছু নয়, কিন্তু রেহানার কাছে সেটিই একটি পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন। যে মা সন্তানদের জন্য মাত্র ৫০০ টাকা ভাড়া জোগাড় করতে নিজের চুল বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন, তার আর্তনাদ যেন আর রেললাইনের পাশে হারিয়ে না যায়।

সমাজের বিত্তবান মানুষ, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন ও মানবিক হৃদয়ের অধিকারীদের প্রতিও এলাকাবাসীর আকুল আহ্বান—রেহানার কান্না যেন আর উপেক্ষিত না থাকে। তার দুই সন্তানের জন্য একটি নিরাপদ ঘর, দুবেলা খাবার এবং স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার ন্যূনতম সুযোগ করে দিতে সবাই যেন নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসেন।

রেহানার প্রয়োজন বড় কিছু নয়—প্রয়োজন শুধু একটি নিরাপদ ঘর। সেই ঘরের চারটি দেয়ালের ভেতরেই হয়তো তার দুই সন্তানের শৈশবটা আবার একটু স্বপ্ন দেখতে শিখবে।