
মোঃ রাসেল শেখ, ব্যুরো প্রধান, নাটোরঃ
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলীর পরামর্শ ও তত্ত্বাবধানে মশারির আদলে বিশেষ নেট ব্যবহার করে কীটনাশক ছাড়াই বেগুন চাষে সফলতা পেয়েছেন স্থানীয় সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলাম। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ, যা কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলার ঠাকুর লক্ষীকুল (সোনার মোড়) এলাকার সবজি চাষি মোঃ শহিদুল ইসলামের ১১ শতক জমিতে স্থাপিত পরীক্ষামূলক বেগুন ক্ষেত পরিদর্শনকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ সবুজ আলী এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, উপজেলায় প্রথমবারের মতো কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলামকে মশারির আদলে বিশেষ নেট ব্যবহার করে কীটনাশকমুক্ত বেগুন চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়। এই পদ্ধতিতে প্রচলিত চাষাবাদের তুলনায় উৎপাদন খরচ ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে এবং ফলনও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। একবার নেট স্থাপন করলে তা পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ব্যবহার করা সম্ভব। এছাড়া প্রতিকূল আবহাওয়ার প্রভাবও বেগুন গাছে খুব একটা পড়ছে না।
তিনি আরও বলেন, নিরাপদ ও বিষমুক্ত হওয়ায় এই বেগুনের বাজার চাহিদা বর্তমানে অনেক বেশি। বিষয়টি দেখে উপজেলার অনেক কৃষক আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং কৃষি অফিসে এসে পরামর্শ নিচ্ছেন। পরীক্ষামূলকভাবে সব ধরনের সবজি চাষে এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারাও মাঠপর্যায়ে গিয়ে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছেন।
কৃষক মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি মূলত বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকেন। অতিরিক্ত শ্রম, খরচ এবং কীটনাশক ব্যবহারের ঝামেলার কারণে একসময় বেগুন চাষ থেকে সরে এসেছিলেন। পরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে নেট পদ্ধতিতে বেগুন চাষ শুরু করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি ফলন ও লাভ—দুটোই বেড়েছে। বাজারে এই বেগুনের চাহিদা ও মূল্যও তুলনামূলক বেশি। তিনি ভবিষ্যতে অন্যান্য সবজি চাষেও এ পদ্ধতি অনুসরণের পরিকল্পনার কথা জানান।
স্থানীয় কৃষক ও বেগুনের আড়ৎদাররা জানান, বিষমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত হওয়ায় এই বেগুনের স্বাদ ভালো এবং বাজারে এর চাহিদাও অনেক বেশি। তারা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের স্বার্থে নেট পদ্ধতিতে সবজি চাষ সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের অভিমত, এই পদ্ধতির ব্যবহার নলডাঙ্গায় নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। কৃষিবান্ধব ও পরিবেশসম্মত এ প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দেশের অন্যান্য এলাকাতেও সবজি চাষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Reporter Name 


















