ঢাকা ১০:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গণভবন রাষ্ট্রের সম্পদ, জুলাই নিয়ে ব্যবসা নয়—অন্যত্র জাদুঘর করার দাবি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • ২১ Time View
Print

মানবাধিকারকর্মী সাইমনের নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভবন কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনগণের সম্পদ—এমন মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী সাইমন। তিনি বলেন, গণভবনকে দলীয় বা ব্যক্তিগত আবেগের ভিত্তিতে ব্যবহার না করে রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজে লাগানো উচিত। সাইমন বলেন, দেশের যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণভবন ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী এই স্থাপনাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই বলেই গণভবনকে জাদুঘরে পরিণত করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত নই। গণভবন শেখ হাসিনার বাপ-দাদার সম্পদ নয়, আবার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদও নয়। এটি রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ।” জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সাইমন বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস, আন্দোলনের স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর জন্য গণভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল একটি স্থাপনা স্থায়ীভাবে জাদুঘরে পরিণত না করে উপযুক্ত অন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, “জুলাইকে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করুন, কিন্তু রাষ্ট্রের এত বড় একটি জায়গা জাদুঘরে পরিণত করে এর স্বাভাবিক ব্যবহার বন্ধ করা আমরা চাই না। জুলাইয়ের নামে ব্যবসা নয়, ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণই হওয়া উচিত মূল উদ্দেশ্য।” রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী সাইমন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদকে দলীয় আবেগের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজে আসে। তিনি বলেন, “এই দেশ আমার, আপনার—আমাদের সবার। রাষ্ট্রের সম্পদও আমাদের সবার। তাই আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কীভাবে জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” সাইমন আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতীয় স্বার্থের অংশ। “জুলাই নিয়ে ব্যবসা নয়, জুলাইকে ইতিহাস ও স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করুন—তবে তার জন্য উপযুক্ত অন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা হোক,”—বলেন মানবাধিকারকর্মী সাইমন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মান্দায় জুলাই শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সংবর্ধনা: “গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় তাঁদের ত্যাগ চির ভাস্বর থাকবে”

গণভবন রাষ্ট্রের সম্পদ, জুলাই নিয়ে ব্যবসা নয়—অন্যত্র জাদুঘর করার দাবি

Update Time : ০৭:৩৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
Print

মানবাধিকারকর্মী সাইমনের নিজস্ব প্রতিবেদক: গণভবন কোনো ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়, এটি রাষ্ট্রের সম্পদ ও জনগণের সম্পদ—এমন মন্তব্য করেছেন মানবাধিকারকর্মী সাইমন। তিনি বলেন, গণভবনকে দলীয় বা ব্যক্তিগত আবেগের ভিত্তিতে ব্যবহার না করে রাষ্ট্র ও জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে কাজে লাগানো উচিত। সাইমন বলেন, দেশের যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম ও নিরাপত্তার প্রয়োজনে গণভবন ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও রাষ্ট্রের প্রয়োজন অনুযায়ী এই স্থাপনাটি ব্যবহারের সুযোগ থাকা প্রয়োজন। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই বলেই গণভবনকে জাদুঘরে পরিণত করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তের সঙ্গে আমরা একমত নই। গণভবন শেখ হাসিনার বাপ-দাদার সম্পদ নয়, আবার এটি কারও ব্যক্তিগত সম্পদও নয়। এটি রাষ্ট্রের সম্পদ, জনগণের সম্পদ।” জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে সাইমন বলেন, জুলাইয়ের ইতিহাস, আন্দোলনের স্মৃতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন সংরক্ষণ করা অবশ্যই প্রয়োজন। তবে এর জন্য গণভবনের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল একটি স্থাপনা স্থায়ীভাবে জাদুঘরে পরিণত না করে উপযুক্ত অন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, “জুলাইকে স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করুন, কিন্তু রাষ্ট্রের এত বড় একটি জায়গা জাদুঘরে পরিণত করে এর স্বাভাবিক ব্যবহার বন্ধ করা আমরা চাই না। জুলাইয়ের নামে ব্যবসা নয়, ইতিহাস ও স্মৃতি সংরক্ষণই হওয়া উচিত মূল উদ্দেশ্য।” রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী সাইমন বলেন, রাষ্ট্রীয় সম্পদকে দলীয় আবেগের ঊর্ধ্বে রাখতে হবে। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে কাজে আসে। তিনি বলেন, “এই দেশ আমার, আপনার—আমাদের সবার। রাষ্ট্রের সম্পদও আমাদের সবার। তাই আবেগের চেয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গণভবনের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে কীভাবে জনগণ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে সর্বোত্তমভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।” সাইমন আরও বলেন, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে দেশের উন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম ও জনকল্যাণে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়ে দায়িত্বশীলভাবে চিন্তা করা প্রয়োজন। জুলাইয়ের স্মৃতি সংরক্ষণের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাও জাতীয় স্বার্থের অংশ। “জুলাই নিয়ে ব্যবসা নয়, জুলাইকে ইতিহাস ও স্মৃতি হিসেবে সংরক্ষণ করুন—তবে তার জন্য উপযুক্ত অন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা হোক,”—বলেন মানবাধিকারকর্মী সাইমন।