
জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
বছরে প্রায় ৮ মাস পানির নিচে থাকে একটি পাকা সড়ক। ফলে চরম ভোগান্তিতে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত একটি টানেলের কারণে জলাবদ্ধতার এই দুর্ভোগ চলছে বছরের পর বছর। নিত্যদিনের এমন ভোগান্তির চিত্র কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকায়। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক। কিন্তু এই ২০ মিটারই এখন আতঙ্কের নাম। বর্ষা শুরু হলেই পানিতে তলিয়ে যায়। আর সেই পানি শুকাতে লাগে ৮ থেকে ১০ মাস। ঐ রাস্তায় নিয়মিত ইজিবাইক চালক রাজা আলী জানান, পানি বন্দী হয়ে থাকায় আমাদের গাড়ি চালাতে খুব অসুবিধা হয়। মাঝে মধ্যেই আমাদের গাড়ি নষ্ট হচ্ছে। এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থী উম্মে মারিয়া জানায়, আগে এই রাস্তা দিয়ে সাইকেল চালিয়ে স্কুলে যেতাম। কিন্তু এখন পানি জমে থাকায় সাইকেল চালানো যায় না। বাধ্য হয়ে হেঁটে যাই। হেঁটে চলাচল করতেও অনেক সমস্যা হয়। কাদাপানিতে জামাকাপড় নোংরা হয়, এই রাস্তা সংস্কার করতে হবে যাতে এখানে পানি আটকে না থাকে। পথচারী জহুরুল ইসলাম জানান, কয়া যাচ্ছিলাম। এখানে এসে দেখি অনেক পানি আটকে আছে। এভাবে তো রাস্তায় চলাচল করা যায় না। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এই টানেলটি নির্মাণ করেছিল। যুগ যুগ ধরে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের লাখো মানুষ এই টানেলের নিচ দিয়েই চলাচল করছে। কিন্তু যত্রতত্র বাড়িঘর আর স্থাপনা নির্মাণে বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের প্রাকৃতিক পথ। নেই কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থাও। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকে পানি। স্থানীয় প্রশাসন বা জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে ভোগান্তি চলছেই। স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ সোহানুর মন্ডল জানান, বৃষ্টি হলেই রাস্তার এমন অবস্থা হয়। এই যে এখন পানি জমেছে, আপাতত ৫-৬ মাস এভাবেই রাস্তায় পানি জমে থাকবে। ভ্যানচালক শফিকুল মালিথা জানান, আগে সাকো দিয়ে চলাচল করতাম। এখন অনেক রাস্তা ঘুরে যেতে হয়। কিন্তু ভাড়া আগেরটাই বলবৎ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায়ই বিকল হয় যানবাহন। নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে চরম ভোগান্তির পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষ। তারা পানি অপসারণ করে দ্রুত কার্যকারী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পানি নিষ্কাশনে অপারগতার কথা স্বীকার করলেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের কুমারখালী উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ নাজমুল হক। তিনি জানান, হাতিসাকোর নিচে আমরা কার্পেটিং রাস্তা তুলে আরসিসি রাস্তা করে দিয়েছি। এখন সেই আরসিসির উপরেই পানি জমে থাকে। আগে ওখানে সড়ক ও জনপথের একটি পাইপের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন হতো। হয়তো এখন সেই পাইপটি আটকে গেছে। এখন ওখানে পৃথক দুই স্থানে দুটি কালভার্ট নির্মাণ করলে পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আখতার বরাদ্দ পেলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে জানান, এটা সংস্কার করতে হলে আমাকে টিআর-কাবিখা থেকে করতে হবে। তবে আগে প্রকৌশলীদের মতামত নিয়ে তারপর ব্যবস্থা নিতে হবে। নাহলে আমি উঁচু করে দেয়ার পর দেখা গেলো গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেলো। বিষয়টি যেহেতু আমাদের নজরে আনলেন, সেহেতু বরাদ্দ এলে আমরা একটা ব্যবস্থা নিবো। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত টানেল আজকের দিনে জলাবদ্ধতার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু আশ্বাস নয়, পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপই পারে এই লাখো মানুষের দুর্ভোগে
Reporter Name 




















