ঢাকা ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক, উদ্ধার চাইনিজ কুড়াল; তদন্তে পুলিশ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
  • ১২ Time View
Print

এম. এ. আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার, গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া চাইনিজ কুড়ালটি জব্দ করে তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি চাইনিজ কুড়াল হাতে দেখা যায় এবং তাকে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এনায়েতপুরে একটি গ্যারেজ পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই গ্যারেজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এছাড়া মাদক-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই পরিচয় ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতেন। ফলে দীর্ঘদিন অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে বা অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তার কাছে প্রায়ই বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দেখা যেত, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল হালিম ও হাজেরা খাতুনের ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া আলামত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তা পেশাটির মর্যাদা ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, আশুলিয়া থানা পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক, উদ্ধার চাইনিজ কুড়াল; তদন্তে পুলিশ

আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহারের অভিযোগে এক ব্যক্তি আটক, উদ্ধার চাইনিজ কুড়াল; তদন্তে পুলিশ

Update Time : ০১:০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
Print

এম. এ. আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার, গ্যারেজ ব্যবসার আড়ালে অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষাপটে মো. সফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক অভিযানে তাকে আটক করা হয়। উদ্ধার হওয়া চাইনিজ কুড়ালটি জব্দ করে তদন্তের স্বার্থে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ভিডিওতে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে একটি চাইনিজ কুড়াল হাতে দেখা যায় এবং তাকে কিছু বিতর্কিত মন্তব্য করতে শোনা যায়। তবে ভিডিওটির প্রেক্ষাপট, বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনার সম্পূর্ণ বিবরণ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সফিকুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে আশুলিয়ার পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার এনায়েতপুরে একটি গ্যারেজ পরিচালনা করতেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই গ্যারেজকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালিত হতো। এছাড়া মাদক-সংক্রান্ত কার্যক্রমে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ওই পরিচয় ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার করতেন। ফলে দীর্ঘদিন অনেকেই তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতে বা অভিযোগ জানাতে সাহস পাননি বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, তার কাছে প্রায়ই বিভিন্ন ধারালো অস্ত্র দেখা যেত, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। সাম্প্রতিক সময়ে অভিযোগের সংখ্যা বাড়তে থাকায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে এবং পরবর্তীতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তেজখালী বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আব্দুল হালিম ও হাজেরা খাতুনের ছেলে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার হওয়া আলামত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিও এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সাংবাদিকতার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যদি ব্যক্তিগত স্বার্থে বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকেন, তবে তা পেশাটির মর্যাদা ও জনআস্থার জন্য ক্ষতিকর। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে, আশুলিয়া থানা পুলিশের এ অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে এবং ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, মাদকসহ অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো প্রমাণিত বলে গণ্য করা যাবে না বলেও সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন।