
স্টাফ রিপোর্টার: মনিরুল ইসলাম ঢাকা: রাজধানীর উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় প্রিয়জনের শেষ স্মৃতি ধরে রাখতে কবরের জন্য নির্ধারিত দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ফি নিয়ে নতুন করে জনমনে তীব্র আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্য অনুযায়ী, কিছু কবরস্থানে ২৫ বছর মেয়াদে একটি কবর সংরক্ষণ করতে সর্বোচ্চ দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে। এ তথ্য প্রকাশের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে বিস্ময়, ক্ষোভ ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বনানী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য একটি কবর সংরক্ষণে প্রায় ১ কোটি টাকা এবং ২৫ বছরের জন্য ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরার বিভিন্ন সেক্টর, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও রায়েরবাজার কবরস্থানেও মেয়াদভেদে ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ফি উল্লেখ করা হয়েছে। এমন ব্যয়বহুল ফি নিয়ে নাগরিকদের প্রশ্ন— মৃত্যুর পরও কি শেষ আশ্রয় হবে শুধুই বিত্তবানদের জন্য? অনেকেই বলছেন, যেখানে সাধারণ মানুষের পক্ষে জীবদ্দশায় রাজধানীতে একটি ছোট্ট জমি কেনাই কঠিন, সেখানে মৃত্যুর পর কবর সংরক্ষণে কোটি টাকা ব্যয় করা বাস্তবতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণতা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ভাবার সময় এসেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, রাজধানীতে জমির তীব্র সংকট, কবরস্থানের সীমিত জায়গা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এ ধরনের উচ্চ ফি নির্ধারণের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্তের সামাজিক প্রভাব, বৈষম্য এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর চাপ নিয়েও বিস্তর আলোচনা প্রয়োজন। বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা, নীতিমালার বিস্তারিত প্রকাশ এবং জনমত বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। কারণ মৃত্যু সবার জন্য সমান বাস্তবতা হলেও, শেষ বিদায়ের স্থান যেন আর্থিক সক্ষমতার ভিত্তিতে বৈষম্যের প্রতীক হয়ে না দাঁড়ায় এমন প্রত্যাশাই সাধারণ মানুষের।
Reporter Name 



















