
আশুলিয়া প্রতিনিধি।। আশুলিয়ার নবীনগরের নিরিবিলি এলাকার বাঁশতলা ফকির বাড়ি মোড় (প্রফেসর বাড়ি) এলাকায় পুলিশের উপস্থিতিতে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া এসকে শফিকুল ইসলাম (শুভ) জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় বাদী ও সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে,গত ৩০ জুলাই রাতে এলাকাবাসী ও উপস্থিত জনতা এসকে শফিকের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে বাধা দিলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার কাছে থাকা একটি চাইনিজ কুড়ালসহ দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে উপস্থিত লোকজনকে ভয়ভীতি দেখান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকাবাসী তাকে ঘিরে রাখে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকরা পৌঁছালে এসকে শফিক নিজেকে “স্পেশাল ক্রাইম রিপোর্টার ৬৪ জেলা” এবং গণঅধিকার পরিষদের একজন নেতা বলে পরিচয় দেন।
তিনি দাবি করেন,তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর থেকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিলেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের দিকেও অস্ত্র নিয়ে তেড়ে আসেন বলে অভিযোগ করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার আশুলিয়া থানায় ফোন করেও পুলিশি সহযোগিতা না পেয়ে ৯৯৯-এ কল করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান চালায়। এ সময় এসকে শফিকের কাছ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল ও একটি হকিস্টিকসহ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র পাওয়া যায় বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ,ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধার হওয়ার পরও সেগুলো জব্দ করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
উক্ত বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,এসকে শফিক দাবি করেছেন যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি এসব দেশীয় অস্ত্র রেখেছিলেন। পরে অন্য একটি ঘটনায় আশুলিয়া থানায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৭, ৪৪৮ ও ৫০৬ ধারায় দায়ের করা মামলায় (মামলা নং-১২৬, তারিখ: ৩১ জুলাই ২০২৬) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। অভিযোগ উঠেছে,জামিনে মুক্ত হওয়ার পর এসকে শফিক পুনরায় মামলার বাদী ও সাংবাদিকদের হত্যার হুমকি দিচ্ছেন। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, শুরুতেই অস্ত্র জব্দ করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। এ ঘটনায় স্থানীয়রা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং অভিযোগ করেছেন,যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গাফিলতির কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
Reporter Name 

















