ঢাকা ০৬:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমারখালীতে নিখোঁজ আদম ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • ২৫ Time View
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকায় দুর্গন্ধের উৎস্য খুঁজতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (১ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. হাবিবুল্লাহ (৪০)। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে সম্প্রতি দেশে এসে তিনি আদম ব্যবসায়ের পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করছিলেন। সেই ফার্নিচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই পুলিশ তার মরদেহটি উদ্ধার। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খোলা থাকলেও গত বুধবার থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও স্বজনরা। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ওই ব্যবসায়ী ঋণের চাপে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, ফার্নিচার দোকানের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। তাদের নাকে মুখে মাস্ক ও গামছা পেঁচানো। প্যাকেটে মোড়ানো মরদেহটি ভ্যানে রশি দিয়ে বাঁধা হচ্ছে। ফার্নিচার দোকান থেকে প্রায় ২০০ গজ দুরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি। সেখানেও ভিড় করেছে উৎসুক জনতা। আহাজারি করছেন স্বজনরা। এ সময় আহাজারি করতে করতে হাবিবুল্লাহর বাবা হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকানঘর থেকে গন্ধ বের হচ্ছিল। সবাই বলছিল কিছু মনে হয় কিছু একটা পঁচেছে। পরে সাটার খুলে দেখি আমার হাবিবুল্লাহ নেই। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের সবাই ডায়রিয়া রোগে ভুগছে। ছেলের বউ বাপের বাড়ি গেছে। চার – পাঁচদিন ধরে ছেলে বাড়ি আসতো না। ফোন ঢোকে কিন্তু কথা হয়না। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে। ছেলে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, পরিবারের সবাই অসুস্থ। বাবার বাড়ি থেকে ওর ( হাবিবুল্লাহ) সাথে মোবাইলে কথা হতো। কিন্তু বুধবার থেকে কল দিচ্ছি। কল যায়, কিন্তু রিসিভ করেনা। আজ ( শনিবার) সকালে কল দিছি। এ কথা বলেই তিনি অস্স্থু হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, হাবিবুল্লাহ বিদেশে লোক পাঠাতো। প্রায় ৮ মাস আগে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু আজও বিদেশ পাঠাতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, হাবিবুল্লাহর কাছে অন্তত ২০০ জনের পাসপোর্ট আছে। কয়েক কোটি টাকা দেনা ছিল। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, হাবিবুল্লাহ অনেক টাকা ঋণ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে অর্ধগলিত মরদেহ হওয়ায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট। প্রকৃত কারণ নির্নয়ের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়া মিরপুরে ভাই ও ভাতিজাদের হামলায় ছোট ভাইয়ের মৃত্যু

কুমারখালীতে নিখোঁজ আদম ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : ০৩:৪৪:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
Print

মোঃ জহুরুল ইসলাম, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর পান্টি ইউনিয়নের পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকায় দুর্গন্ধের উৎস্য খুঁজতে গিয়ে এক ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ শনিবার (১ আগষ্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। নিহত ব্যক্তির নাম মো. হাবিবুল্লাহ (৪০)। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হামিদ বিশ্বাসের ছেলে। দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে সম্প্রতি দেশে এসে তিনি আদম ব্যবসায়ের পাশাপাশি ফার্নিচারের ব্যবসা করছিলেন। সেই ফার্নিচার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকেই পুলিশ তার মরদেহটি উদ্ধার। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি খোলা থাকলেও গত বুধবার থেকে হাবিবুল্লাহ নিখোঁজ ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশ ও স্বজনরা। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ওই ব্যবসায়ী ঋণের চাপে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পান্টি গোলাবাড়ি বাজার এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, ফার্নিচার দোকানের সামনে উৎসুক জনতার ভিড়। তাদের নাকে মুখে মাস্ক ও গামছা পেঁচানো। প্যাকেটে মোড়ানো মরদেহটি ভ্যানে রশি দিয়ে বাঁধা হচ্ছে। ফার্নিচার দোকান থেকে প্রায় ২০০ গজ দুরে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ি। সেখানেও ভিড় করেছে উৎসুক জনতা। আহাজারি করছেন স্বজনরা। এ সময় আহাজারি করতে করতে হাবিবুল্লাহর বাবা হামিদ বিশ্বাস বলেন, সকালে দোকানঘর থেকে গন্ধ বের হচ্ছিল। সবাই বলছিল কিছু মনে হয় কিছু একটা পঁচেছে। পরে সাটার খুলে দেখি আমার হাবিবুল্লাহ নেই। তাঁর ভাষ্য, পরিবারের সবাই ডায়রিয়া রোগে ভুগছে। ছেলের বউ বাপের বাড়ি গেছে। চার – পাঁচদিন ধরে ছেলে বাড়ি আসতো না। ফোন ঢোকে কিন্তু কথা হয়না। অনেক খোঁজাখুঁজিও করা হয়েছে। ছেলে মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর কোনো অভিযোগ নেই। স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, পরিবারের সবাই অসুস্থ। বাবার বাড়ি থেকে ওর ( হাবিবুল্লাহ) সাথে মোবাইলে কথা হতো। কিন্তু বুধবার থেকে কল দিচ্ছি। কল যায়, কিন্তু রিসিভ করেনা। আজ ( শনিবার) সকালে কল দিছি। এ কথা বলেই তিনি অস্স্থু হয়ে পড়েন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবক বলেন, হাবিবুল্লাহ বিদেশে লোক পাঠাতো। প্রায় ৮ মাস আগে আমার ভাইয়ের কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু আজও বিদেশ পাঠাতে পারেনি। তাঁর ভাষ্য, হাবিবুল্লাহর কাছে অন্তত ২০০ জনের পাসপোর্ট আছে। কয়েক কোটি টাকা দেনা ছিল। কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, হাবিবুল্লাহ অনেক টাকা ঋণ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে অর্ধগলিত মরদেহ হওয়ায় অনেক কিছুই অস্পষ্ট। প্রকৃত কারণ নির্নয়ের জন্য মরদেহটি মর্গে পাঠানো হয়েছে।