ঢাকা ১২:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেরপুরে চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৪২ Time View
Print

এস এম রাকিব
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :–

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আঁশগ্রাম দক্ষিণপাড়া থেকে সাহাপুর পর্যন্ত সড়কটির দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবানীপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অধিকাংশ অংশই এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই কাদায় আটকে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, আর কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু আজও সেই দাবি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আঁশগ্রাম দক্ষিণপাড়া থেকে সাহাপুর পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে পাকা করা হোক। একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

স্থানীয়রা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটির পাকাকরণের কাজ শুরু করা হবে।

এলাকাবাসীর আর্তনাদ—“আমাদের বিলাসবহুল কিছু চাই না, শুধু একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য পাকা রাস্তা চাই।” উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাই হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা ও অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত”

শেরপুরে চলাচলের রাস্তার বেহাল দশা, চরম দুর্ভোগে এলাকাবাসী

Update Time : ০২:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Print

এস এম রাকিব
বগুড়া জেলা প্রতিনিধি :–

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের আঁশগ্রাম দক্ষিণপাড়া থেকে সাহাপুর পর্যন্ত সড়কটির দীর্ঘদিনের বেহাল অবস্থায় দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়ে, সৃষ্টি হয় বড় বড় গর্ত। এসব গর্তে পানি জমে থাকায় প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবানীপুর ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটির অধিকাংশ অংশই এখন চলাচলের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো রাস্তা কাদা ও পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান কাদা জমে থাকায় পথচারীদের চলাচল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। মোটরসাইকেল, ভ্যান, অটোরিকশাসহ বিভিন্ন যানবাহন প্রায়ই কাদায় আটকে যাচ্ছে। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং দুর্ভোগ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর ফলে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, রোগী, গর্ভবতী নারী, প্রবীণ ব্যক্তি ও কর্মজীবী মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে, আর কৃষকদের উৎপাদিত ফসল সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানিয়ে আসছেন এলাকাবাসী। কিন্তু আজও সেই দাবি বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। বর্ষা এলেই দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। এতে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাবাসীর একটাই দাবি—আঁশগ্রাম দক্ষিণপাড়া থেকে সাহাপুর পর্যন্ত সড়কটি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে পাকা করা হোক। একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ হলে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হবে, কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত নির্বিঘ্ন হবে এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

স্থানীয়রা সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের প্রতি জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটির পাকাকরণের কাজ শুরু করা হবে।

এলাকাবাসীর আর্তনাদ—“আমাদের বিলাসবহুল কিছু চাই না, শুধু একটি নিরাপদ ও চলাচলযোগ্য পাকা রাস্তা চাই।” উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষেরও সমান অধিকার রয়েছে। তাই হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট, দুর্ভোগ ও প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।